তৃণমূলকে শেষ করার সুপরিকল্পিত ছক! পুলিশি হুমকি নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মহুয়ার

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসকদলের বিরুদ্ধে এবার সুর চড়ালেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিতে রাজ্যজুড়ে এক সুপরিকল্পিত অভিযান চালানো হচ্ছে। চারপাশ থেকে সাঁড়াশি চাপ তৈরি করে দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলকে কোণঠাসা করার এই কৌশলের ফলে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা
দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে গিয়ে মহুয়া অভিযোগ করেন, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বা নিচুতলার নেতারা কোথাও বৈঠক করতে গেলেই পুলিশ তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে। দেশের জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতার জোরে ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের কণ্ঠস্বরকে এভাবে স্তব্ধ করা যায় না। তৃণমূলের শিকড় মাটির অনেক গভীরে থাকায় তা উপড়ে ফেলা কারও সাধ্যে নেই বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। দল চরম সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে গেলেও আগামী ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী দিনের লড়াইয়ের দিশা দেখাবেন বলে কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মিড-ডে মিল ও ‘অন্নপূর্ণা’ নিয়ে কটাক্ষ
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি রাজ্যের নতুন সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতিগুলি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। মিড-ডে মিলে ডিম দেওয়া নিয়ে বিজেপির প্রচারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, গরিব ঘরের শিশুরাই এই সরকারি খাবারের ওপর নির্ভরশীল, তাই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা অর্থহীন। পাশাপাশি নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ২ কোটি ৪০ লক্ষ মহিলা উপকৃত হতেন। কিন্তু নতুন বাজেটে মাত্র ১ কোটি মহিলার জন্য বরাদ্দ হওয়ায় বাকি ১ কোটি ৪০ লক্ষ মহিলা চরম বঞ্চনার শিকার হবেন। ভোটের আগে ভাতা বৃদ্ধির আশায় যাঁরা বিরোধীদের সমর্থন করেছিলেন, নতুন নিয়মের বেড়াজালে তাঁদের একটি বড় অংশ অনুদান থেকে বাদ পড়বেন বলে তিনি দাবি করেন।