‘ইরান বলে কিছু থাকবে না!’ তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা যুদ্ধের দামামা

‘ইরান বলে কিছু থাকবে না!’ তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা যুদ্ধের দামামা

ওয়াশিংটন/তেহরান: ফের অগ্নিগর্ভ পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ওপর তীব্র সামরিক অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, তাদের ‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে’। দুই দেশের এই সংঘাত ঘিরে নতুন করে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা দানা বেঁধেছে।

কেন এই হামলা?

আমেরিকার সেন্টকম (CENTCOM) সূত্রে খবর, শুক্রবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘এভার লাভলি’ এবং শনিবার ভোরে পানামার ‘এম/টি কিকু’ নামের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী ওই জাহাজগুলোতে হামলার পরপরই তেহরানকে কড়া বার্তা দেয় ওয়াশিংটন। কিন্তু শর্ত না মানায় শনিবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে বিধ্বংসী মিসাইল হামলা চালায় মার্কিন সেনা। প্রবল বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং রেভোলিউশনারি গার্ডের একাধিক সামরিক পরিকাঠামো।

ট্রাম্পের বিস্ফোরক হুমকি:

এই অভিযানের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প গর্জে উঠে বলেন, “ইরানকে বারবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওদের শিক্ষা হওয়ার নয়। আমাদের সেনা অভিযান শুরু করেছে এবং তা শেষ পর্যন্ত লড়বে।” ট্রাম্প সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, “পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে গেলে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান বলে মানচিত্রে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।”

পাল্টা তেহরানের হুঙ্কার:

আমেরিকার এই হামলার জবাবে ইরানও পিছু হটতে নারাজ। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স-এর মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-ফিকার সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত করা হয়েছে। এর এমন জবাব দেওয়া হবে যা পুরো পরিস্থিতি বদলে দেবে। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এবার দীর্ঘ অন্তহীন রাতের জন্য প্রস্তুত থাকুন, খুব শীঘ্রই আপনারা আমাদের আসল শক্তির পরিচয় পাবেন।”

একদিকে ইরান-আমেরিকা সংঘাত, অন্যদিকে বাহরিনের আকাশসীমায় ইরানের ড্রোনের অনুপ্রবেশ— সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাকর। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টা এই সংকটের মোড় ঘোরানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *