তারাতলা বিপর্যয়: ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নজরে যাদবপুরের বিশেষজ্ঞ দল
কলকাতা: তারাতলা বিপর্যয় কাণ্ডে এবার সরাসরি নাম জড়ালো কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। ঘটনার তদন্তে সিট (SIT) গঠনের পাশাপাশি, শনিবার তারাতলা থানায় ফিরহাদ হাকিম এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর—আনোয়ার খান ও শামস ইকবালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভারতীয় জনতা মজদুর সেল (বিজেএমসি)।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে কী?
বিজেএমসি-র দাবি, কলকাতা পোর্ট এলাকায় বেআইনি নির্মাণের একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে, যা প্রাক্তন মেয়র এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের মদতেই চলছে। তাদের অভিযোগ, এই বিপর্যয় নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং বেআইনি নির্মাণের ফলেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, রাজ্যের বর্তমান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও সরাসরি ফিরহাদ হাকিমের গ্রেপ্তারির দাবি তুলেছেন।
তদন্তের নতুন মোড়:
- ফিরহাদের ভূমিকা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বিধানসভায় নথিপত্র দেখিয়ে দাবি করেছিলেন যে, ওই গোডাউনের বিল্ডিং প্ল্যানে ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। যদিও ফিরহাদের দাবি, ওই সই কেবলই একটি আনুষ্ঠানিকতা। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, তৎকালীন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করে মিলেছে ‘টিম ওয়ার্ক’-এর সূত্র। তাই প্রয়োজনে ফিরহাদ হাকিমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।
- বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা: ঘটনার প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল শনিবার অকুস্থলে পৌঁছান। অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে এই দলটির কাজ হবে নির্মাণের নকশা, ব্যবহৃত উপকরণের গুণমান এবং মাটির নমুনা পরীক্ষা করা।
- বেআইনি নির্মাণ: প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আইন না মেনে কংক্রিটের পিলারের পরিবর্তে লোহার পোস্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। লিজের শর্ত ভেঙে অনুমোদিত সীমার বাইরেও নির্মাণকাজ চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় ‘বেহরা ব্রাদার্স’-এর মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিট এখন ধৃতদের বয়ান এবং বাজেয়াপ্ত নথির ভিত্তিতে তদন্তের জাল আরও বিস্তার করছে। পুলিশের দাবি, নতুন দায়ের হওয়া অভিযোগটিও সিট গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবে।