২৫ লাখের বদলে মাত্র ২ লাখ! একুশের গোপন রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর
July 21, 20269:32 am

দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখা একুশে জুলাইয়ের ‘বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন’-এর রিপোর্ট অবশেষে বিধানসভায় পেশ করল রাজ্য সরকার। আর এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক বঞ্চনা থেকে শুরু করে তথ্য গোপনের মতো একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রিপোর্টে ঠিক কী কী অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
- আর্থিক বঞ্চনা: মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কমিশনের সুপারিশ ছিল নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। কিন্তু বিগত সরকার মাত্র ২ লক্ষ টাকা দিয়ে দায় সেরেছে। একইভাবে আহতদের ৫ লক্ষ টাকার বদলে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা।
- ‘ডিম-ভাত উৎসব’ কটাক্ষ: শহিদদের আত্মবলিদানকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, “যাঁদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে এই বাৎসরিক ‘ডিম-ভাত উৎসব’, তাঁদের প্রতি এই অবিচার এক গভীর অপরাধ।”
- কমিশনকে অসহযোগিতা: রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন সরকার কমিশনকে প্রয়োজনীয় নথি দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশ কর্তাদের আড়াল করতেই এই অসহযোগিতা করা হয়েছিল।
- মমতার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন কমিশনের সামনে হাজিরা দেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা বিমান বসুর মতো নেতারা কমিশনের তলবে সাড়া দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এড়িয়ে গিয়েছেন।
বর্তমান সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপ:
- RTI করার সুযোগ: বিগত সরকারের আমলের সব তথ্যের কাস্টোডিয়ান হিসেবে বর্তমান সরকার তা জনসমক্ষে আনতে প্রস্তুত। যে কেউ আরটিআই (RTI) করে এই রিপোর্ট বা নথিপত্র দেখতে পারবেন।
- নথি গায়েব হলে FIR: মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, যদি দেখা যায় একুশে জুলাই সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র ইচ্ছে করে গায়েব করা হয়েছে, তবে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হবে।
- শহিদ পরিবারের পাশে সরকার: ক্ষতিপূরণ আদায় বা নতুন করে আইনি লড়াইয়ের পথে যদি শহিদ পরিবারগুলি হাঁটতে চায়, তবে বর্তমান সরকার তাদের সম্পূর্ণ আইনি সহায়তা দেবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সত্য অমর। দীর্ঘদিন পর আজ সত্যের উন্মোচন হলো।” বিধানসভায় এই রিপোর্ট পেশের পর রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধীদের তরজা যে এক নয়া মাত্রা পেল, তা বলাই বাহুল্য।