নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড: দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ, কেন এমন অদ্ভুত নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টির’?

নিট (NEET UG 2026) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থার বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের আন্দোলন এখন আর দিল্লির যন্তর মন্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বেঙ্গালুরু, পটনা থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্তে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। ৩০ বছর বয়সী রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিত্ দিপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) আজ দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের অন্যতম প্রধান সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
কেন এমন অদ্ভুত নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?
সংগঠনটির নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। গত মে মাসে একটি মামলার শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন যে, বেকার যুবকদের একাংশ সাংবাদিকতা ও আন্দোলনের নামে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ হয়ে উঠছেন। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে এটি ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে বলে স্পষ্ট করলেও, সেই মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করেই আন্দোলনকারীরা তাঁদের সংগঠনের নাম রাখেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এমনকি প্রতিবাদের সময় বহু স্বেচ্ছাসেবীকে আরশোলার পোশাক পরে অংশ নিতেও দেখা গেছে।
আন্দোলনে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ও মোদীর প্রতিক্রিয়া:
এই ছাত্র বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। সিজেপি-র সমর্থনে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করার পর গত শনিবার তাঁকে জোর করে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন যে তাঁর ওজন ১১ কেজি কমে গেলেও তিনি লড়াইয়ে অনড় রয়েছেন। অন্যদিকে, দেশজুড়ে চলা এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে নিট প্রশ্নফাঁসকে ‘মহাপাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কথা বলেছেন। তবে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।