প্রশ্নফাঁস রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: ৪ রাজ্যের হাইকোর্টে বসছে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত!

প্রশ্নফাঁস রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: ৪ রাজ্যের হাইকোর্টে বসছে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত!

দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের জেরে প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার বিচারে এবার যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন যে, দেশের প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত প্রতিটি মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের পরেই প্রশ্ন উঠেছিল যে ঠিক কোন কোন অঞ্চলে এই আদালতগুলি প্রতিষ্ঠিত হবে। বর্তমানে সেই বিষয়েই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, বোম্বে হাইকোর্টের ঔরঙ্গাবাদ ও নাগপুর বেঞ্চ, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এবং কলকাতা ও দিল্লি হাইকোর্টের এখতিয়ারভুক্ত এলাকাগুলিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ এই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতগুলি স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার প্রণীত ‘পাবলিক পরীক্ষা (অসৎ উপায় প্রতিরোধ) আইন ২০২৪’ গত ২০২৪ সালের ২১ জুন থেকে সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে। ইউপিএসসি, এসএসসি, আরআরবি, আইবিপিএস এবং এনটিএ (NTA) পরিচালিত সমস্ত কেন্দ্রীয় পরীক্ষাই এই কঠোর আইনের আওতাভুক্ত।

ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠিত হলে কী পরিবর্তন আসবে?

বিশেষ এই আদালতগুলি তৈরি হলে বিচার প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন গতি আসবে। প্রতিদিন নিয়মমাফিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত সর্বাধিক সংখ্যক মামলা বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর ও ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চ এবং কলকাতা হাইকোর্টের আওতাধীন এলাকাগুলিতে বিচaraধীন রয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন আন্দোলন ও লাঠিচার্জ সংক্রান্ত মামলাগুলি রয়েছে দিল্লি হাইকোর্টের এখতিয়ারে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ও হাইকোর্টগুলিকে দ্রুত ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত প্রতিষ্ঠা করে দৈনিক ভিত্তিতে মামলার শুনানি পরিচালনার জন্য কড়া বার্তা পাঠানো হয়েছে।

কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী?

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (পূর্বে টুইটার) এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতারণাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলোর শুনানি এবার থেকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে করা হবে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *