কেন্দ্রের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান! NEET ইস্যুতে ২৪ জুলাই দেশজোড়া আন্দোলনের ডাক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র

কেন্দ্রের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান! NEET ইস্যুতে ২৪ জুলাই দেশজোড়া আন্দোলনের ডাক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র

NEET প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে উত্তাল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই আবহে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-কে পুনরায় আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সরকারের সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে CJP। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষার কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে অনড় থেকে তারা আগামিকাল, ২৪ জুলাই দেশজুড়ে বৃহত্তর বিক্ষোভ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

কেন্দ্রের আলোচনার প্রস্তাব ও মন্ত্রীদের বার্তা

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্দোলনকারীদের অচলাবস্থা কাটাতে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

  • কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, বুধবার বিকেল থেকে CJP-র কাছে চারটি পৃথক বৈঠকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
  • মন্ত্রীর বাড়ি বা অফিস—যেখানেই আন্দোলনকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেখানেই আলোচনা করতে প্রস্তুত সরকার।
  • কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গেও বৈঠকে বসতে রাজি বলে জানানো হয়েছে। সরকারের স্পষ্ট বার্তা, এই বিষয়ে তাঁদের কোনও ‘ইগো’ নেই এবং তাঁরা যেকোনো সুবিধামতো সময়ে বসতে প্রস্তুত।

আন্দোলনকারীদের অনীহা ও মূল দাবিগুলি

কেন্দ্রের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় CJP নেতৃত্ব। তাদের সাফ কথা, শুধুমাত্র আলোচনা বা ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের আশ্বাসই সমস্যার সমাধান নয়। সরকারের কাছে তাদের প্রধান দাবিগুলি হলো:

  • কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা অপসারণ।
  • NEET-সহ সমস্ত প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যুক্তদের কঠোর শাস্তি এবং NTA-র শীর্ষ আধিকারিকদের জবাবদিহি।
  • পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহার।
  • রুদ্ধদ্বার বৈঠক বা ব্যক্তিগত বাসভবনে নয়, প্রকাশ্যে লিখিত রূপরেখা সহকারে আলোচনা।

২৪ জুলাইয়ের দেশজোড়া কর্মসূচি

সরকার আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তিমিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে CJP। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। তবে আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের শুধুমাত্র ‘জয় হিন্দ’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘জয় ভীম’-এর মতো ইতিবাচক স্লোগান দিতে এবং যেকোনো ধরনের হিংসা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *