জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা কাড়ল রাজ্য, দুর্নীতি রুখতে জেলায় জেলায় পুলিশি অভিযান

জন্ম ও মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্র বিলির জালিয়াতি রুখতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন, এ বার থেকে রাজ্যের কোনও পুরপ্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধান—অর্থাৎ কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না। এই দায়িত্ব এখন থেকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের হাতেই থাকবে।
মুখ্যসচিব জানান, শংসাপত্র বিতরণে বিস্তর গরমিল ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে, যা সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) বা বিশেষ সময়ে। পুলিশের কাছে বহু অভিযোগ আসার পাশাপাশি অনেক জায়গায় নকল শংসাপত্র উদ্ধার হয়েছে। এই জালিয়াতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত হওয়া সমস্ত শংসাপত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভুয়ো শংসাপত্র ধরা পড়লে তা বাতিল করা হবে। তবে সাধারণ মানুষের ভয়ের কিছু নেই বলে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করার একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি আধিকারিকরাই পরিচালনা করবেন। ভবিষ্যতে এই কাজে কোনো বেনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এই ঘোষণার আগেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলাজুড়ে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিলির দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে জোরদার পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। কলকাতা ও বিধাননগর সহ বীরভূম, হুগলির (চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি), বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, আসানসোল, মালদার ইংরেজবাজার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত অফিসে হানা দিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির নথিপত্র এবং জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই বিষয়ে মালদার ইংরেজবাজারের পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ও বালুরঘাটের পুরপ্রধান সুরজিৎ সাহা জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে সমস্ত তদন্ত ও নথি যাচাইয়ের কাজে প্রশাসনকে পুরোপুরি সহযোগিতা করা হচ্ছে।