রেকর্ড আয় ৭,৯০০ কোটির গণ্ডি পার! তবুও সাড়ে ২৭০০ কোটির বেশি লোকসানের মুখে ফোনপে? আসল কারণ জানুন

রেকর্ড আয় ৭,৯০০ কোটির গণ্ডি পার! তবুও সাড়ে ২৭০০ কোটির বেশি লোকসানের মুখে ফোনপে? আসল কারণ জানুন

ডিজিটাল পেমেন্ট ও ফিনটেক জগতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংস্থা ফোনপে (PhonePe) তাদের ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। রেজিস্ট্রার অফ কো ম্পা নিজ (RoC)-এর কাছে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবর্ষে সংস্থাটির সমন্বিত পরিচালন আয় ১১.৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭,৯২০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

তবে তাক লাগানোর মতো আয় বৃদ্ধি পেলেও, বিভিন্ন এককালীন খরচ এবং অন্যান্য কারণে সংস্থাটিকে মোট ২,৭৯২ কোটি টাকার নিট লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে।

লোকসানের নেপথ্যে মূল কারণগুলি কী কী?

আয় বৃদ্ধির পরেও কেন এই বিপুল পরিমাণ লোকসান হলো, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে ফোনপে কর্তৃপক্ষ। এর পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ সামনে এসেছে:

  • ইউপিআই প্রণোদনার অর্থ বকেয়া: সংস্থা জানিয়েছে, সরকার এখনও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ইউপিআই ডিজিটাল ইনসেনটিভ বা প্রণোদনার অর্থ ছাড় করেনি। এই কারণে ওই অর্থ চলতি হিসাবের খাতায় যোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই বকেয়া অর্থ হাতে পেলে লাভজনকতার চিত্রটি অনেকটাই বদলে যাবে বলে আশাবাদী তারা।
  • বিপুল এককালীন ও অন্যান্য ব্যয়: এই লোকসানের পেছনে এমন কিছু খরচ রয়েছে যা স্বাভাবিক ব্যবসার অংশ নয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ এমপ্লয়ি স্টক অপশন প্ল্যান (ESOP) বাবদ এককালীন খরচ, নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের মূল্যের নগদবিহীন হ্রাস (Depreciation), সহযোগী সংস্থায় অংশীদারিত্ব বিক্রি থেকে লাভ এবং একটি বন্ধ ব্যবসা থেকে হওয়া ক্ষতি। এই বিশেষ আর্থিক বিষয়গুলির জন্যই মোট লোকসানের পরিমাণ স্বাভাবিক ব্যবসায়িক লোকসানের (১,৩৭৭ কোটি টাকা) তুলনায় অনেকটাই বেশি দেখিয়েছে।

ভবিষ্যতের দিকে নজর বিনিয়োগকারীদের

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠিন প্রতিযোগিতার বাজারেও ফোনপের পরিচালন আয়ে দুই অঙ্কের এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারে তাদের অবস্থান এখনও বেশ শক্ত। সরকারের তরফ থেকে ইউপিআই প্রণোদনার বকেয়া অর্থ মিলে গেলে আগামী অর্থবর্ষে আর্থিক ফলাফল আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত এককালীন খরচের জেরে লোকসান বেড়ে যাওয়ায়, ভবিষ্যতে ফোনপে কীভাবে খরচ নিয়ন্ত্রণ করে লাভজনকতার পথে ফেরে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *