“অবৈধ দখলদারি ঢাকতেই এই লোক দেখানো ভোট!” পাক-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে সাফ জানাল ভারত

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) আয়োজিত তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই ছড়িয়ে পড়ে চরম হিংসা, খুন এবং ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ। প্রথম দফার ১৩টি আসনের ঘোষিত ফলাফলের পর থেকেই রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N) ৯টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং বাকি ৪টি আসন পেয়েছে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP)।
কেন্দ্রীয় সরকারে দুই শরিক দল একসঙ্গে ক্ষমতায় থাকলেও, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও কারচুপির মারাত্মক অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।
ভোট ঘিরে তুমুল হিংসা ও জালিয়াতির অভিযোগ
- রক্তাক্ত নির্বাচন ও বুথ দখল: ভোটের দিনেই পিএমএল-এন (PML-N) সমর্থকদের গুলিতে পিপিপির (PPP) এক কর্মী নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। পাশাপাশি, কয়েকটি এলাকায় ব্যালট বাক্স লুঠ করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।
- বিলাওয়ালের দলের তোপ: পিপিপি সাধারণ সম্পাদক নাযার বোখারি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের জয়ী আসনগুলি ঘুরপথে নওয়াজ শরিফের দলকে ‘উপহার’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পিপিপি প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
- বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন: নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র দাবি, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ও সংঘর্ষে তাদের অন্তত ১৪ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও পাক প্রশাসন এই পরিসংখ্যান অস্বীকার করেছে।
ভারতের কড়া অবস্থান
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে এই লোক দেখানো নির্বাচন আসলে তাদের বেআইনি দখলদারি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সত্য গোপন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।
ভারতের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পুরো জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ। সেখানে পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে জোরপূর্বক অবৈধ দখল বজায় রেখেছে। স্থানীয় জনগণের ওপর ক্রমাগত প্রশাসনিক অত্যাচার এবং তীব্র ক্ষোভকে বিশ্বমঞ্চ থেকে আড়াল করতেই পাকিস্তান এই তথাকথিত নির্বাচনের নাটক সাজিয়েছে।
উল্লেখ্য, পিওকে-র মোট ৫৩টি আসনের জন্য আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফায় এই প্রহসনের নির্বাচন চলবে। এর আগেই ইমরান খানের দল (PTI) এই নির্বাচন বয়কট করার ঘোষণা করেছিল।