‘জয়ের সঙ্গে বিনয়ও জরুরি’, CJP-র বিজয় উৎসবে ক্ষুব্ধ ওয়াংচুক

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং টানা ছাত্র আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর ‘বিজয় উল্লাস’ ঘিরে নতুন বিতর্ক। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) শীর্ষ নেতাদের একটি হোটেলে নাচ-গানের ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনায় স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করে পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক বার্তা দিয়েছেন— “জয়ের সঙ্গে বিনয়ও থাকা উচিত।”
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে CJP-র ভিডিয়ো
সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) নিজস্ব X (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়, যার ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘ইস্তফার খুশিতে’।
- ভিডিয়োর দৃশ্য: ভিডিয়োতে দেখা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের ‘জয়’ উদযাপনে বলিউডের গানের তালে উদ্দাম নাচছেন CJP নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা-সহ একদল তরুণ-তরুণী।
- সমালোচনার ঝড়: এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের একাংশ তীব্র কটাক্ষ করেন। প্রশ্ন ওঠে, এই উদযাপনের সময় কি আত্মঘাতী নিট পরীক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের কথা একবারও মনে পড়ল না?
সোনম ওয়াংচুকের কড়া বার্তা
যন্তর মন্তরে টানা ২৬ দিন অনশনের পর সরকারের লিখিত আশ্বাসে অনশন ভেঙেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর CJP নেতৃত্বের এই উল্লাস ভালো চোখে দেখেননি তিনি। নিজের X হ্যান্ডলে এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন:
“জয়ের সঙ্গে বিনয়ও থাকা উচিত। মর্যাদা, আত্মসংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গেই জয় উদযাপন করতে হয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে ওয়াংচুকের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অভিযোগ খারিজ করে CJP-র সাফাই
বিতর্ক তীব্র হতেই দলের পক্ষ থেকে সাফাই দিয়েছেন CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।
- হোটেল প্রসঙ্গ: সৌরভ দাসের দাবি, অনুষ্ঠানটি কোনও পাঁচতারা হোটেলে হয়নি; সেটি বড়জোর দুই বা তিনতারা হোটেল ছিল।
- আয়োজনের উদ্দেশ্য: টানা ৩৭ দিন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা প্রায় ১৫০-২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদের ধন্যবাদ এবং বিদায় সংবর্ধনা জানাতেই এই ছোট পরিসরের আয়োজন করা হয়েছিল।
কেন এই উদযাপন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন?
টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা নিশ্চিত করলেও, আন্দোলনের রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। অভিযোগ, বহু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি এবং অনেকেই সম্পূর্ণ আইনি সুরক্ষা পাননি। এই আবহে এমন ‘বিজয় উৎসব’ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সমাজের সচেতন মহল।