অনাস্থার পর ‘ডিম-হামলা’! উত্তপ্ত জলপাইগুড়ি পুরসভা, নিজের ঘরেই আক্রান্ত চেয়ারম্যান

অনাস্থার পর ‘ডিম-হামলা’! উত্তপ্ত জলপাইগুড়ি পুরসভা, নিজের ঘরেই আক্রান্ত চেয়ারম্যান

সকালে জমা পড়েছিল অনাস্থা প্রস্তাব, আর দুপুর গড়াতেই চেম্বারের ভেতরেই ডিম আক্রমণের শিকার হলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়! বৃহস্পতিবার এই বেনজির ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় পুরো পুরসভা চত্বরে। ঘটনার পেছনে ‘পরিকল্পিত চক্রান্তের’ অভিযোগ এনেছেন চেয়ারম্যান নিজে। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন নাগরিক পরিষেবা না পেয়ে জনগণের জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ঘটনার মাধ্যমে।

প্রসঙ্গত, ২৫ টি আসন বিশিষ্ট জলপাইগুড়ি পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য (২২টি আসন)। বিরোধীদের ঝুলিতে রয়েছে মাত্র ৩টি আসন। তবে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই প্রকাশ্যে আসে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি কলকাতায় গিয়ে তৃণমূলের ‘ঋতব্রতপন্থী’ শিবিরের কাছাকাছি আসায় মূল নেতৃত্বের চোখে অপ্রিয় হয়ে ওঠেন চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতোর নেতৃত্বে দলের ৯ জন ‘কালীঘাটপন্থী’ কাউন্সিলর একজোট হয়ে মহকুমা শাসকের কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। কাকতালীয়ভাবে, সেদিনই একটি বোর্ড মিটিং ডেকেছিলেন চেয়ারম্যান। অনাস্থায় স্বাক্ষরকারী কাউন্সিলররা না এলেও, চেয়ারম্যান অনুগামী কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শুরুর ঠিক আগেই শহরের ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু বাসিন্দা নাগরিক পরিষেবা সম্পর্কিত আলোচনার অজুহাতে চেয়ারম্যানের চেম্বারে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, সেখানে ঢুকেই তাঁরা চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ডিম ছুড়তে শুরু করেন। ঘটনার সময় চেম্বারে উপস্থিত ছিলেন যুব কংগ্রেস সভাপতি নব্যেন্দু মৌলিক। সৈকতবাবুর দাবি, নব্যেন্দুই এই ঘটনার মূল চক্রী। যদিও নব্যেন্দুবাবু সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে জানান, পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে মানুষ কথা বলতে এসেছিলেন; কে বা কারা ডিম ছুড়েছে তা তাঁর জানা নেই।

ঘটনার পর মিটিং বাতিল করে ক্ষুব্ধ চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই ধরনের কালচার জলপাইগুড়ির নয়। ঘর থেকেই ইশারা করে বাইরের লোক ডেকে এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অনাস্থা দেওয়া ৯ জন কাউন্সিলরকে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে আমি আগেই শো-কজ করেছিলাম, হয়তো সেই কারণেই আজ এই অশান্তি তৈরির চেষ্টা হলো।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *