১৫ কেজিতেই শেষ নয়! সোনা মাপার যন্ত্র নিয়ে এবার ‘পাথরসম্রাট’ টুলুর প্রাসাদে পুলিশ

বীরভূম: ১৫ কেজি সোনা এবং ২৮ কোটি টাকা নগদ উদ্ধারের পরও থামছে না চমক! বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ তথা অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ‘টুলু’ মণ্ডলের সাম্রাজ্যে এবার সোনা মাপার মেশিন নিয়ে হাজির হলো পুলিশ। সঙ্গে আনা হয়েছে স্বর্ণকারদেরও। জেলা পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া ১৫ কেজি সোনার বাইরেও আরও বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না বা বিস্কুট লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে এই বাড়িতে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন সিউড়ি ও মহম্মদবাজার এলাকায় টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিনার মণ্ডলের ডেরায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ৬টি বিশাল লোহার ট্রাঙ্ক ও ২টি আলমারি বোঝাই হয়ে বের হয় থরে থরে সাজানো নগদ ২৮ কোটি টাকা এবং আনুমানিক ২২ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ কেজি খাঁটি সোনা। বৃহস্পতিবার সকালেই মিনারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এর পরপরই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিউড়ি এবং পৈতৃক গ্রাম সোঁৎশালে টুলু মণ্ডলের সুবিশাল প্রাসাদোপম বাড়ি ও মহম্মদবাজারের বিশাল ট্রাক পার্কিংয়ে একযোগে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে জেলা পুলিশ। বিশাল এই বাড়িটি এখন র্যাফ ও মহিলা পুলিশের ঘেরাটোপে।
বীরভূমের নলহাটি, মুরারই ও মহম্মদবাজার এলাকার ব্যাসল্ট পাথরের বেআইনি কারবারের মূল কারিগর এই টুলু মণ্ডল। খনি থেকে পাথর উত্তোলন থেকে শুরু করে ভুয়ো রসিদ (DCR) তৈরি— তাঁর সবুজসংকেত ছাড়া এলাকা থেকে একটি পাথর বোঝাই লরিও বের হতে পারত না। শ্যালক গ্রেফতার হলেও মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডল এখনো অধরা। তাঁর এই সুবিশাল বেনামি সম্পত্তি ও কালো টাকার উৎস খুঁজতে এখন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন।