‘নাবিকদের ওপর হামলা বরদাস্ত নয়!’—ইরানকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের, উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী

যুদ্ধবিরতি হলেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপোড়েন থামছে না। গত দু’মাসে ওই অঞ্চলের জলপথে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার বলি হয়েছেন অন্তত ৯ জন ভারতীয় নাবিক। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
ইরানি বিদেশমন্ত্রীকে স্পষ্ট ভাষায় জয়শঙ্কর জানান, “কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর এই ধরনের হামলা বরদাস্ত করা হবে না।” ভারত সব সময় আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে—এই বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়েও দিল্লির গভীর উদ্বেগের কথা জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর মূল পদক্ষেপসমূহ:
- মোদী সরকারের জরুরি বৈঠক: সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি’ (CCS)-র এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশি-বিদেশি জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের সার্বিক নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়।
- পরিবার ও নাবিকদের জন্য সহায়তা: প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত নাবিকদের পরিবারকে দ্রুত তথ্য সরবরাহ করা হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে সাহায্য ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।
- নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা: পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গত ১৬ জুলাই ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নির্দেশ দিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীগামী কোনো জাহাজে নতুন করে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ করা যাবে না।
- বাড়তি সতর্কতা: পারস্য উপসাগর ও হরমুজ সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ জলপথে চলাচলকারী সমস্ত জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানি বন্ধ করতে নয়াদিল্লি যেমন একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভারতীয়দের না পাঠানোর মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপও কড়াভাবে কার্যকর করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি বজায় থাকবে।