“উন্নয়ন হোক, কিন্তু জীবন ধ্বংস করে নয়!” তোর্সা চা-বাগান উচ্ছেদ মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের

কলকাতা: ভারত-ভুটান সীমান্ত বাণিজ্য জোরদার করতে আলিপুরদুয়ারের তোর্সা চা-বাগান সংলগ্ন এলাকায় ‘জয়গাঁও স্থলবন্দর’ গড়ার কাজ শুরু করেছে সরকার। তবে এই প্রকল্পের জন্য সীমানা প্রাচীর তৈরি হতেই চরম সঙ্কটে পড়েছেন স্থানীয় প্রায় ৮১টি আদিবাসী পরিবার। অভিযোগ, প্রকল্পের খাতিরে ৮০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলিকে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে চা-বাগান শ্রমিকদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। মামলাকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সওয়াল করেন যে— ভোটার ও রেশন কার্ডধারী এই পরিবারগুলি ১৯৪০ সাল থেকে সেখানে রয়েছে। সার্বিক উন্নয়ন জরুরি হলেও মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করে তা হতে পারে না।
অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে দাবি করা হয় যে ওই জমিটি সম্পূর্ণ সরকারি এবং বাসিন্দাদের কোনো আইনি মালিকানা নেই। সরকারি প্রকল্পের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, আইনি কাঠামোর পাশাপাশি এর সঙ্গে মানবিক দায়বদ্ধতা জড়িত। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির জন্য মানবিক ভিত্তিতে কী ধরনের পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব, কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারকেই সে বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।