জামিনে ফিরেই ফের নাবালিকাকে ধর্ষণ! ক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে মৃত্যু অভিযুক্তের

ঝাড়খণ্ড: জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরেই ফের একই অপরাধে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের এক নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় জেল খাটার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছিল ওই অভিযুক্ত। কিন্তু মুক্ত হয়েই সে ফের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এর পরপরই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অভিযুক্তকে বেধড়ক মারধর করে জনতা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার টান্ডওয়া এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যায় শৌচকার্য সারার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ভুক্তভোগী কিশোরী। অভিযোগ, সেই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে সারারাত ধরে অত্যাচার চালায়। সারা রাত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খোঁজাখুঁজি করলেও মেয়েটির সন্ধান মেলেনি।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতা বাড়ি ফিরে সমস্ত ঘটনা পরিবারকে জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় চরম ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাকে টেনে বের করে আনে এবং লাঠি ও পাথর দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়।
পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: চাতরার টান্ডওয়া মহকুমার পুলিশ আধিকারিক (SDPO) প্রভাত রঞ্জন বারওয়ার জানান, নির্যাতিতার পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটিতে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড স্টেট মাইনরিটি কমিশনের চেয়ারম্যান হেদায়াতুল্লাহ খান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যেকোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অনুচিত।” তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি চাতরা জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল শীঘ্রই চাতরা পরিদর্শন করবে বলে জানানো হয়েছে।