মাত্র ২৫ সপ্তাহে প্রসব যন্ত্রণা! রানাঘাটে প্রাণ হারাল ৪ সদ্যজাত, যমদূতের মুখ থেকে প্রসূতিকে ফেরালেন চিকিৎসকেরা

শান্তিপুর: গর্ভাবস্থার মাত্র ২৫ সপ্তাহে আচমকা তীব্র প্রসব যন্ত্রণা। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর একে একে জন্ম নিল চার কন্যাসন্তান। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না—সময়ের অনেক আগে জন্ম নেওয়া ও অত্যন্ত কম ওজনের কারণে একে একে মৃত্যু হলো চার নবজাতকেরই। তবে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন মা। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর আগেও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সম্প্রতি তিনি তৃতীয়বারের জন্য অন্তঃসত্ত্বা হন। শারীরিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তাঁর গর্ভে একসঙ্গে চারটি সন্তান বেড়ে উঠছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘কোয়াড্রুপ্লেট প্রেগন্যান্সি’ বলা হয়, যা অত্যন্ত বিরল।
ঘটনার দিন ৬ মাসের (২৫ সপ্তাহ) গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন ওই গৃহবধূর তীব্র প্রসব বেদনা শুরু হয়। তাঁকে দ্রুত রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে স্বাভাবিক নিয়মে চার কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও, জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি শিশু মারা যায়। কিছুক্ষণ পর বাকি দুটি নবজাতকও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। চিকিৎসকেরা জানান, পূর্ণ সময় (৯-১০ মাস) গর্ভে না থাকা ও ওজনে চরম ঘাটতির কারণেই সদ্যজাতদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতার কারণে প্রসূতির অবস্থাও চরম সংকটজনক হয়ে পড়েছিল। তবে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও নিরলস চিকিৎসায় শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সম্পূণ সুস্থ অবস্থায় তিনি বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। চার সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে বিষাদের ছায়া নেমে এলেও, সংকটজনক মুহূর্তে গৃহবধূর প্রাণ বাঁচিয়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।