‘সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন সুশীল’, দিল্লি হাই কোর্টে ধাক্কা খেলেন অলিম্পিয়ান কুস্তিগির

প্রাক্তন জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগির সাগর ধনকর হত্যা মামলায় অলিম্পিক্স পদকজয়ী সুশীল কুমারের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লি হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সুশীল জামিন পেলে মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল? ২০২১ সালের ৪ মে দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে দু’দল কুস্তিগিরের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ ওঠে, সুশীল কুমার ও তাঁর দলবলের brutal মারে গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে প্রাণ হারান তরুণ কুস্তিগির সাগর ধনকর। ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই এই হত্যাকাণ্ডে সুশীলের নাম জোরালোভাবে উঠে আসে। কিছুদিন পলাতক থাকার পর ২০২১ সালের মে মাসেই দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
আদালতে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব:
- পুলিশ ও সাগরের বাবার আইনজীবী: জামিনের কড়া বিরোধিতা করে তাঁরা জানান, সুশীল অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি। এর আগে সাময়িক জামিন পেলেও সাক্ষীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছিল। তাই তাঁকে জামিন দিলে তদন্ত ও বিচারাধীন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- সুশীলের আইনজীবী: তাঁর যুক্তি ছিল, সুশীল দীর্ঘদিন ধরে জেল হেফাজতে রয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রায় শেষ। তাই তাঁর মক্কেল জামিন পাওয়ার যোগ্য।
হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ: উভয় পক্ষের যুক্তিশ্রবণ শেষে বিচারপতি পুরুষৈন্দ্র কুমার জানান, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত পূর্বপরিকল্পিত ও নৃশংস। ভিডিও ফুটেজ ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের মতো জোরালো তথ্যপ্রমাণ সুশীলের বিরুদ্ধে রয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব ও অতীতে সুশীলের আচরণের কথা মাথায় রেখেই তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করা হলো।