মাঝআকাশে ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের মুখে এয়ার ইন্ডিয়া! পাইলটের ডোপ টেস্টের চূড়ান্ত রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য

গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 বিমানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ডাইভারশনের পর মুখ্য পাইলটের করা ডোপ টেস্টের প্রাথমিক রিপোর্টে ‘নট নেগেটিভ’ (Not Negative) আসার পর ল্যাবরেটরিতে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার পাওয়া সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেই চূড়ান্ত ‘কনফার্মেটরি’ ল্যাব পরীক্ষাতেও পাইলটের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
১৩৭ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু সদস্যসহ মোট ১৪৫ জনকে নিয়ে বিমানটি যখন মাঝআকাশে, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। আচমকা বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসে এবং পরপর কয়েকবার ডিগবাজি খায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ১৭ জন আহত হন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আকাশে বড় বিমানের প্রভাবে তৈরি হওয়া হাওয়ার তরঙ্গে ছোট এয়ারবাস (A320) নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। তবে প্রাথমিক তদন্তে খারাপ আবহাওয়ার কথা বলা হলেও, সরকারি নথিতে কোনো ‘টার্বুল্যান্স’ (Turbulence)-এর কথা স্পষ্ট উল্লেখ নেই।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি
চূড়ান্ত রিপোর্টে পাইলটের শরীরে উত্তেজক বা ‘সাইকোঅ্যাকটিভ’ (Psychoactive) পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হলেও, সেটি ঠিক কোন ধরনের মাদক ছিল তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পাইলট কি ইচ্ছাকৃতভাবে নিষিদ্ধ বস্তু গ্রহণ করেছিলেন, নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল—তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
ডোপ টেস্টের এই চূড়ান্ত ফল সত্য প্রমাণিত হলে, অসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ামক সংস্থা (DGCA) ওই পাইলটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে মাঝআকাশে নিয়ন্ত্রণ হারানোর নেপথ্যে সত্যিই এই মাদকের ভূমিকা ছিল কি না—তা প্রমাণিত হলে দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে যাবে।