‘গৃহকর্মী মানেই দাস নন!’ গুরুগ্রামের অভিজাত আবাসনে পরিচারিকাকে মারধর, ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই গ্রেপ্তার গৃহবধূ

‘গৃহকর্মী মানেই দাস নন!’ গুরুগ্রামের অভিজাত আবাসনে পরিচারিকাকে মারধর, ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই গ্রেপ্তার গৃহবধূ

গুরুগ্রাম: গুরুগ্রামের অত্যন্ত অভিজাত আবাসন ‘ডিএলএফ ক্যামেলিয়াস’-এ এক গৃহপরিচারিকাকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রায় দেড় মিনিটের (৯০ সেকেন্ড) একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৫২ বছর বয়সী অভিযুক্ত রুচিরা সচদেভা তাঁর গৃহপরিচারিকাকে রান্নাঘর থেকে বের হতে দেখে পিছন থেকে চুলে ধরে টেনে আনছেন। এরপর তাঁকে কদর্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি মোবাইল ফোন দিয়ে মারধর ও হুমকি দিতে দেখা যায়। পুরো দৃশ্যটি পাশের এক ফ্ল্যাট থেকে গোপনে ক্যামেরাবন্দি করেন এক প্রতিবেশী।

ঘটনাটি গত ২৪ জুলাইয়ের। ভিডিওটি নেটপাড়ায় নজরে আসতেই সুশান্ত লোক থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তে নামে। অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-র ১১৫ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পরবর্তীতে তদন্তে সহযোগিতার শর্তে তিনি জামিন পান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা পরিচারিকা নেপালের বাসিন্দা এবং গত দু’বছর ধরে ওই বাড়িতেই কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২৭ জুলাই বচসার জেরে তিনি কাজ ছেড়ে নিজের দেশে ফিরে যান। তিনি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি; উল্টে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভিডিওটি স্রেফ সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে।

অভিজাত মানসিকতার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এই দাসপ্রথার কদর্য রূপ সামাজিক সচেতনতার ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিল। কাউকে বেতনে কাজ রাখা মানেই তাঁর ওপর শারীরিক বা মানসিক অধিকার জন্মায় না। গৃহকর্মীরা কোনো ক্রীতদাস নন—সামন্ততান্ত্রিক ও অমানবিক এই মানসিকতা আধুনিক সমাজে যে আর বরদাশত করা হবে না, এই ঘটনা তারই কড়া বার্তা দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *