“শুধু গ্রেপ্তার নয়, চাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি!” নির্মল ঘোষের পতনে ক্ষোভে-আনন্দে ফুঁসছে জলহাটি

অভয়া কাণ্ডে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ গ্রেপ্তার হতেই আনন্দে মেতে উঠল জলহাটি! দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা ক্ষোভ যেন এক মুহূর্তে ফেটে পড়ল বাঁধভাঙা উৎসবে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাস্তায় নেমে এলেন স্থানীয় বাসিন্দারা—চলল ঢোল বাজিয়ে নাচ, মিষ্টিমুখ আর আবির খেলা।
তবে শুধুই আনন্দ নয়, ছিল প্রতিবাদের তীব্র আঁচও। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নির্মল ঘোষের ছবিতে জুতোর মালা পরিয়ে ও কাদা মাখিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এলাকার বাসিন্দাদের স্পষ্ট দাবি, “শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, নির্মম অত্যাচারের জন্য উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে নির্মলকে। পাশাপাশি এই ঘটনার সাথে জড়িত বাকি দুই অভিযুক্তকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জলহাটির মানুষ ও মহিলাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। এক বাসিন্দা ক্ষোভ ও স্বস্তি প্রকাশ করে জানান, অভয়ার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মদত দেওয়ার মাশুল আজ নির্মলকে দিতেই হচ্ছে। অপরাধীরা ছাড় পাবে না, পুরো পশ্চিমবঙ্গ আজ এই গ্রেপ্তারিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।
কী ঘটেছিল?
৯ আগস্ট আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের পেছনে বড়সড় জালিয়াতি ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের থেকে কোনো টাকা না নিয়ে এবং তাঁদের সই ছাড়াই তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়েছিল দেহটি। এই ঘটনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় ছিলেন তৎকালীন জলহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।
গত সোমবার অভয়ার বাবা খড়দা থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে খুব শীঘ্রই রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হবে। আর এই গ্রেপ্তারের খবর পৌঁছানো মাত্রই উৎসবে মেতে ওঠে গোটা জলহাটি।