TMC-তে মহাভাঙন: ২০ সাংসদের ভাগ্য ঝুলে, এবার সুপ্রিম কোর্টে কালীঘাট!

রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর পদ্ম শিবিরের জয়ের আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। দল ছেড়ে বের হয়ে যাওয়া ২০ জন সাংসদ ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি’ (NCPI)-তে যোগ দিলেও, লোকসভায় এখনও তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁদের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। স্পিকারের তরফ থেকে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায়, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতারা বারবার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে এই ২০ জন সাংসদের পদ খারিজের দাবি জানিয়েছেন। অভিষেকের অভিযোগ— যে সাংসদরা বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন এবং এখনও সরকারি স্বীকৃতি পাননি, তৃণমূলের আসন বদলে তাঁদের পাশেই বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
অন্যদিকে, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাফ কথা— লোকসভার বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার একমাত্র স্পিকারেরই রয়েছে, এতে অন্য কারও হস্তক্ষেপ চলে না।
সব মিলিয়ে, একদিকে বিধানসভায় প্রায় ৬০ জন বিধায়কের অসন্তোষ আর অন্যদিকে সুদীপ-কাকলিদের মতো সাংসদদের দলত্যাগ— সব মিলিয়ে চরম সাংগঠনিক সংকটে এখন কালীঘাট।