AI-ই এখন হ্যাকারদের প্রধান হাতিয়ার! DeepSeek-কে অস্ত্র বানিয়ে সাইবার হামলার জোয়ার

তাইওয়ানের বিখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা TeamT5-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মতে, চীনের সাথে যুক্ত বেশ কিছু হ্যাকার গোষ্ঠী ‘DeepSeek’-সহ বিভিন্ন ওপেন-সোর্স AI মডেল ব্যবহার করে তাদের হামলার পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেন অপরাধীদের পছন্দের তালিকায় DeepSeek?
বিশেষজ্ঞদের মতে, DeepSeek-এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো এর কম খরচ, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং সহজে নিজের মতো কাস্টমাইজ করার সুবিধা। এছাড়া অন্যান্য অনেক পশ্চিমি AI মডেলের তুলনায় এটিতে সাইবার নিরাপত্তা বা ‘গার্ডরেল’ কিছুটা শিথিল। TeamT5-এর প্রধান বিশ্লেষক চার্লস লি (Charles Li) জানান, এই কারণেই চিনা হ্যাকারদের কাছে DeepSeek এত দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কীভাবে চলছে এই হামলা?
AI কেবল কোডিং করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না; বরং সাইবার হামলার প্রায় প্রতিটি ধাপে এটি ভূমিকা রাখছে:
- লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ: সম্ভাব্য কোথায় হামলা চালানো যায় এবং কাদের ই-মেল ব্যবস্থার ওপর নজর রাখা যায় তা খুঁজে বের করছে।
- তথ্য সংগ্রহ: বিপুল সংখ্যক IP এড্রেস বিশ্লেষণ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করছে।
- কোড তৈরি: ক্ষতিকর ‘এক্সপ্লয়েট কোড’ (Exploit Code) তৈরিতে হ্যাকারদের সাহায্য করছে।
ফলাফলস্বরূপ, যে হামলা চালাতে আগে প্রচুর সময় ও মানুষের প্রয়োজন হতো, তা এখন AI-এর সাহায্যে নিমেষেই সম্ভব হচ্ছে। গবেষণায় Grimfengxi, Huapi এবং Teleboyi-র মতো বিপজ্জনক হ্যাকার গোষ্ঠীর এই ধরণের কার্যকলাপ হাতেনাতে ধরা পড়েছে।
শুধু DeepSeek নয়, নিশানায় আরও AI!
গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে বিষয়টি কেবল DeepSeek-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ChatGPT এবং Anthropic-এর Claude Code-এর মতো জনপ্রিয় AI টুলগুলোকেও হ্যাকাররা তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তবে একটি বিষয় স্বস্তির—AI নিজে থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হামলা চালাচ্ছে না; হ্যাকাররা একে কমান্ড বা নির্দেশ দিয়ে নিজেদের মতো ব্যবহার করছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বড় চ্যালেঞ্জ
সস্তা ও সহজলভ্য AI মডেলগুলো সাইবার অপরাধের পথ আরও সুগম করে দিচ্ছে। এর ফলে যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ব্যবস্থার ওপর একসাথে বহু সাইবার হামলার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
তবে মনে রাখতে হবে, AI কোনো হ্যাকিং টুল নয়—এটি একটি প্রযুক্তি। অপরাধীরা যেমন একে আক্রমণের কাজে লাগাচ্ছে, তেমনই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাইবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং ব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত করতে এই AI-কেই হাতিয়ার করতে পারেন। সাইবার নিরাপত্তা বজায় রাখতে এখন থেকে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা, অনলাইন নজরদারি বাড়ানো এবং কর্মীদের সচেতন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।