‘মোদী আগেই সতর্ক করেছিলেন!’ চিনা পণ্যের আগ্রাসনে ধসে পড়া ইউরোপ অবশেষে নতি স্বীকার করল ভারতে

বেজিংয়ের বাণিজ্যিক আগ্রাসন এবং চিনের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্যিক নির্ভরতার মাশুল গুণছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার স্বীকার করেছেন যে, এই অর্থনৈতিক বিপদের কথা ইউরোপীয় নেতারা সময়মতো বুঝতে না পারলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনেক আগেই তাঁদের সতর্ক করেছিলেন।
ইউরোপের স্বীকারোক্তি ও চিনা ‘ডাম্পিং’ সংকট তিন দিনের ভারত সফরে এসে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ইউরোপীয় শিল্পকে দুর্বল করতে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে সস্তা চিনা পণ্য বাজারে ডাম্প করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ইউরোপ নীরব দর্শক থাকলেও এখন তাদের ভুল ভেঙেছে এবং তারা মোদীর নীতি ও দূরদর্শিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সস্তা চিনা পণ্যের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো এবং বছরে ৩৬০ বিলিয়ন ইউরোর বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়ছে। চিনা ডাম্পিংয়ের ধাক্কায় ইউরোপের বহু নামীদামি কেমিক্যাল ও গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা কারখানা বন্ধ ও কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভারতের ওপর বাড়ছে ইউরোপের আস্থা বিশ্বস্ত ও টেকসই ‘সাপ্লাই চেইন’ (সরবরাহ শৃঙ্খল) গড়ে তোলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বারবার জোর দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের পরিবর্তনশীল নীতির মাঝে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখছে। দীর্ঘ আলোচনার পর চলতি বছরেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন হয়েছে, যা খুব শীঘ্রই কার্যকর হতে চলেছে।
ভারত-বেলজিয়াম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় দীর্ঘ দুই দশক পর বেলজিয়ামের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতদিন ভারত-বেলজিয়াম বাণিজ্য মূলত হিরে শিল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এখন তা প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, ওষুধ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে বিস্তৃত হচ্ছে। বেলজিয়াম সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা পাকিস্তানকে কোনো প্রকার সামরিক সরঞ্জাম বা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি দেবে না, বরং ভারতের সঙ্গেই বেশ কিছু বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।