ব্যবসায়ী খুনে লালবাজারে হানাদারি! গ্রেফতার কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট ও সিভিক ভলেন্টিয়ার

ঝাড়খণ্ডের এক তরুণ ব্যবসায়ী খুনের তদন্তে এবার চরম চাঞ্চল্যকর মোড়। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং এক মহিলা সিভিক ভলেন্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে খোদ লালবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে টানা অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ অগাস্ট ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের কদমা বিজয়া হেরিটেজের বাসিন্দা, তরুণ ব্যবসায়ী নিখর সবলোককে চান্ডিল এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’। ব্যবসায়ীকে খতম করতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার সুপারি দিয়ে ভাড়া করা হয়েছিল পেশাদার শার্প শ্যুটার। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখার পর সূক্ষ্ম ছক কষে তাঁকে খুন করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখতে গিয়ে আসল অপরাধীদের সূত্র পায় ঝাড়খণ্ড পুলিশ। দেখা যায়, বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত (৩৭) এবং মহিলা সিভিক ভলেন্টিয়ার টুইঙ্কল দাসের (৩০) সঙ্গে মূল অভিযুক্তদের একাধিকবার টেলিফোনে কথা হয়েছে।
নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি বিশেষ দল লালবাজারে পৌঁছায়। সেখানে দু’জনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অপরাধে তাঁদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হতেই ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। কলকাতা পুলিশের কর্মীদের এমন হাই-প্রোফাইল খুনের মামলায় জড়িয়ে পড়া ও লালবাজার থেকে গ্রেফতারির ঘটনায় পুলিশ মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।