নোংরা সরঞ্জামে চিকিৎসা! ফেসবুক লাইভে হাসপাতালের ‘অব্যবস্থা’ প্রকাশ্যে আনলেন ক্ষুব্ধ বাবা

নদীয়া: নদীয়ার হাঁসখালির বগুলা গ্রামীণ হাসপাতালে এক শিশুর চিকিৎসায় চরম গাফিলতি ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসার সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত (Sterilize) না করেই রোগীদের শরীরে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এক জখম শিশুর বাবা। এই ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। বগুলা এলাকার বাসিন্দা নিত্যগোপাল বিশ্বাস তাঁর পাঁচ বছরের জখম ছেলেকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযোগ, শিশুর ক্ষতস্থানে প্রাথমিক চিকিৎসার কাজ শুরু হতেই তিনি দেখতে পান, যে কাঁচিটি ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে স্পষ্ট রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। নিত্যগোপাল বাবু সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে আপত্তি জানালে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁর ওপর চড়াও হন এবং দুর্ব্যবহার করেন বলে দাবি।
হাসপাতাল কর্মীদের এই ভূমিকায় বাধ্য হয়ে তিনি ওই অবস্থাতেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি লাইভ ভিডিও করেন। সেই ভিডিওতে জরুরি বিভাগের অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত নোংরা সরঞ্জাম স্পষ্ট দেখা যায়। নিত্যগোপাল বাবুর দাবি, “প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের সরঞ্জামগুলি জীবাণুমুক্ত না করেই বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টেরিলাইজার মেশিনের ভেতরে জং ধরে গিয়েছে। সম্ভবত মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। প্রতিবাদ করায় চিকিৎসক ও কর্মীরা চরম দুর্ব্যবহার করেছেন।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই লাইভ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরেই নেটপাড়া ও হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা অন্য রোগীদের পরিবারের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং স্টেরিলাইজারের জল ২৪ ঘণ্টাই ফুটন্ত থাকে। নিয়ম মেনেই চিকিৎসা করা হচ্ছিল বলে দাবি তাঁদের। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা।