“পরিবর্তন না হলে আমাদের অবস্থাও চিন্ময় প্রভুর মতো হতো!”— কেষ্টপুরের মঞ্চে বিস্ফোরক বার্তা

“পরিবর্তন না হলে আমাদের অবস্থাও চিন্ময় প্রভুর মতো হতো!”— কেষ্টপুরের মঞ্চে বিস্ফোরক বার্তা

কেষ্টপুর: ওপার বাংলায় সনাতনীদের ওপর সাম্প্রতিক নিপীড়ন ও অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক মন্তব্য উঠে এল কেষ্টপুরের এক গণেশ পুজো উদ্বোধনে। শনিবার পুজোর সূচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করা হয়, সময়ে সঠিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন না হলে এ রাজ্যের সনাতনীদের অবস্থাও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মতো হতে পারত।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে সনাতনী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়। স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পেছনে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে এবং এটি মূলত বাঙালি হিন্দুদের নিজস্ব মাতৃভূমি। ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের ওপর চলা অত্যাচারের আঁচ যেভাবে এপারে আসছিল, তা রোধ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নিজের পরিবারের অতীতের ভিটেমাটি ছাড়ার স্মৃতির কথা ব্যক্ত করা হয়। একই সাথে বাঙালি হিন্দুর হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি ও পরম্পরা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়।

পাশাপাশি, অতীত বাম শাসনকে তীব্র আক্রমণ করে অভিযোগ তোলা হয় যে, ৩৪ বছরের লাল রাজত্বে পুজো প্যান্ডেলের বাইরে কার্ল মার্ক্সের বই বিক্রি হলেও স্থান পেতেন না স্বামী বিবেকানন্দের মতো মনীষীরা। অতীতের ধর্মীয় অনুশাসন ও সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে অষ্টমীর দিনে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।

সবশেষে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বারতায় বলা হয়, গণেশ পুজো, দুর্গাপূজা কিংবা ছট পুজো— সবই সনাতনীদের যৌথ উৎসব এবং এই দেশ সবার। পুজোর মরশুমে এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *