রেজিনগরে আসাদ, নন্দীগ্রামে শান্তিগোপাল: উপনির্বাচনে জোড়া বাজি বামেদের
কংগ্রেসের পথ ধরে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে সিপিএমের টিকিটে লড়াই করবেন আইনজীবী ও যুব সংগঠনের নেতা সৈয়দ আসাদ আলি। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে সিপিআইয়ের প্রার্থী করা হয়েছে শান্তিগোপাল গিরিকে, যিনি গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে লড়েছিলেন। শনিবার বিকেলে মুর্শিদাবাদে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সভা শেষে রাতেই দুই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়।
গত বিধানসভা ভোটের মতোই এই উপনির্বাচনেও বাম-কংগ্রেস জোট হচ্ছে না। এ বিষয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান, “কংগ্রেস নিজেদের প্রার্থী আগে ঘোষণা করেছে। প্রতিটি দলের সেই স্বাধীনতা রয়েছে। তবে আমরা বিজেপি-বিরোধী সব শক্তিকে একজোট করার পক্ষেই।”
রেজিনগর আসনে কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি অবশ্য লড়াইটিকে প্রধানত কংগ্রেস বনাম বিজেপির বলেই মনে করছেন। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) শীর্ষ নেতা হুমায়ুন কবীর বা তাঁর ছেলেকে কোনো রাজনৈতিক ফ্যাক্টর মানতে নারাজ কাফি। উল্টোদিকে, হুমায়ুন কবীর কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে দাবি করেন, গত নির্বাচনে ২৯৪টি আসনে লড়াই করে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট নোটার (NOTA) মতোই ছিল। রেজিনগরে ইতিমধ্যেই এজেইউপি-র তরফে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন হুমায়ুনের পুত্র গোলাম নবি আজাদ।
অন্যদিকে, উপনির্বাচনের পর বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে ২০৮ বা ২০৯ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লি থেকে যে কোনো দিন বিজেপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতে পারে। পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’—উভয় শিবিরই এই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছে। প্রতীক ও দলীয় স্বীকৃতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নজর রাখছে সমস্ত রাজনৈতিক মহল।