BRICS ডিনারে ‘শ্রী অন্ন’-র জয়জয়কার: পনির লবাবদার থেকে মাশরুম গলৌটি, নিরামিষেই মাত বিশ্বনেতারা

BRICS ডিনারে ‘শ্রী অন্ন’-র জয়জয়কার: পনির লবাবদার থেকে মাশরুম গলৌটি, নিরামিষেই মাত বিশ্বনেতারা

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ১৮তম BRICS সম্মেলনের প্রথম দিনে বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের জন্য এক জাঁকজমকপূর্ণ গালা ডিনারের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতীয় রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে পুরো নৈশভোজটিকে রাখা হয়েছিল সম্পূর্ণ নিরামিষ। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে ভারতের পুষ্টিকর ও পরিবেশবান্ধব শস্য ‘শ্রী অন্ন’ বা মিলেটের (Millet) গুরুত্ব বাড়াতে প্রায় প্রতিটি পদেই ছিল মিলেটের অভিনব ছোঁয়া।

শুরুতেই আধুনিকতার ছোঁয়া ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ নৈশভোজের সূচনাতেই পরিবেশন করা হয় গুজরাতি খাণ্ডভির আধুনিক সংস্করণ—‘খাণ্ডভি মিল-ফেয়ি’। সর্ষে, নারকেল ও কারিপাতার ফোড়নে ভাপানো ছোলার বেসনের এই পদটি আম ও দইয়ের বিশেষ ড্রেসিংয়ের সাথে পরিবেশিত হয়। এর সঙ্গেই ছিল লখনউয়ের বিখ্যাত স্বাদের নিরামিষ রূপ—প্যান-গ্রিল করা নরম ‘খুম্ব (মাশরুম) গালৌটি কাবাব’, যা দেওয়া হয় ক্ষীরমাল রুটি ও পুদিনা পার্লের সাথে।

মূল পর্বে উত্তর-দক্ষিণের স্বাদ ও বিশ্বমানের মেলবন্ধন মেন কোর্সে ভারতীয় রন্ধনশৈলীর উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মেলবন্ধন স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে:

  • উত্তর ও হিমালয়ের পদ: ঘন পেঁয়াজ-টমেটোর গ্রেভিতে তৈরি পনির লবাবদারের পাশাপাশি মেনুর মূল আকর্ষণ ছিল হিমালয়ের বিরল ও মূল্যবান গুচ্ছি মাশরুম, কিশমিশ ও বাদাম দিয়ে তৈরি ‘গুচ্ছি মার্মিক’।
  • দক্ষিণী স্বাদ: তাজা নারকেল ও সর্ষে সহযোগে সাঁতলানো ‘ক্যারট বিন পোরিয়াল’ এবং বিশেষ ‘থাক্কালি বেল সারে ডাল’।
  • শ্রী অন্ন বা মিলেট: সুগন্ধি চালের সঙ্গে জোয়ার ও বাজরা মিশিয়ে তৈরি করা হয় স্বাস্থ্যকর মিলেট পোলাও, যার সঙ্গী ছিল লালচে বিটরুট রায়তা।
  • আন্তর্জাতিক নিরামিষ পদ: বিদেশি অতিথিদের রুচির কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক পদ হিসেবে ছিল পেন্নে আল পোমোদোরো এ পন্না, বেকড ভেজিটেবল আ গ্রাতিন এবং সাইট্রাস-পার্সলে ড্রেসিং স্যালাড।

মিষ্টিমুখ ও সতেজ পানীয় শেষ পাতে দিল্লির খাঁটি মিষ্টির পরশ মেলাতে ছিল মরশুমি ফল ও হুইপড ক্রিমের সাথে মচমচে গরম জিলিপি এবং সোনার পাত দিয়ে সাজানো বিশেষ ‘শাহতুৎ (তুঁত ফল) ফিরনি’। পানীয় হিসেবে পরিবেশন করা হয় রিফ্রেশিং ডাবের জল ও বেদানার রস।

খাবারের পাতে ‘সাংস্কৃতিক কূটনীতি’ এই নৈশভোজ কেবল সুস্বাদু খাবারের আয়োজন ছিল না, বরং ভারতের BRICS সভাপতিত্বের মূল সুর ‘Humanity First’ এবং দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এক কূটনৈতিক প্রয়াস। সান্ধ্যভোজকে আরও মনোমুগ্ধকর করতে ১৬০ জন শিল্পীর সুসংগত পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ‘BRICS Symphony’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *