‘সব ঠিক আছে তো?’ জিনপিংয়ের খোঁজ নিতে ভাষণ থামালেন প্রধানমন্ত্রী, নজর কাড়ল মোদী-সৌজন্য

দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর কেড়েছে। সম্মেলনের মূল মঞ্চে মোদীর একটি মানবিক ও সৌজন্যমূলক আচরণ এবং দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক রসায়ন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১. ভাষণ থামিয়ে জিনপিংয়ের খোঁজ নিলেন মোদী
সম্মেলনে নিজের উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার সময় হঠাৎই চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিকে নজর যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। জিনপিংকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে দেখে তিনি নিজের বক্তৃতা মাঝপথেই থামিয়ে দেন। এরপর পাশে থাকা অনুবাদকের মাধ্যমে চিনা প্রেসিডেন্টকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করেন, ‘ইজ ইট ওকে?’ অর্থাৎ, ‘সব ঠিক আছে তো?’ কয়েক মুহূর্ত পর জিনপিং মাথা নেড়ে সম্মতিসূচক ইঙ্গিত দিলে ফের নিজের বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। দূরদর্শনের ফুটেজে ধরা পড়া এই ছোট্ট ঘটনাটি দুই নেতার ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের ছবিকেই সামনে এনেছে।
২. ভারত-চিন সম্পর্কে উষ্ণতার ছোঁয়া
ব্রিকস সম্মেলনের শুরু থেকেই দুই নেতার মধ্যে বেশ কিছু ইতিবাচক মুহূর্ত দেখা গিয়েছে। ভারত মণ্ডপমে জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর পাশাপাশি তামিলনাড়ুর রামনাথস্বামী মন্দিরের বিখ্যাত করিডরের স্থাপত্যের গুরুত্বও তাঁকে বোঝাতে দেখা যায় মোদীর। এছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সঙ্গে নিয়ে তিন নেতার কথোপকথন এবং দীর্ঘ করমর্দনের ছবি বর্তমান পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
৩. পহেলগাঁও হামলার নিন্দা ও ঘোষণাপত্র
পাকিস্তানের সঙ্গে বেজিংয়ের ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি ব্রিকস ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে চিন। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এই ঘোষণাপত্রে, যা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৪. বরফ গললেও সীমান্ত সমস্যাই মূল চ্যালেঞ্জ
সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা এবং চিনা বিনিয়োগে নিয়ম শিথিল করার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় কাঁটা এখনও পূর্ব লাদাখসহ সীমান্ত বিরোধ। নয়াদিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির পূর্বশর্ত হিসেবে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থাকে গুরুত্ব দিলেও, বেজিংয়ের বিবৃতিতে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত উষ্ণতা ও সৌহার্দ্যের ছবি প্রকট হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানই এখন ভারত-চিন সম্পর্কের প্রধান পরীক্ষা।