চোখ এড়ানোর দিন শেষ: এবার শহরের রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভাঙলেই সটান ই-চালান!

চোখ এড়ানোর দিন শেষ: এবার শহরের রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভাঙলেই সটান ই-চালান!

রাস্তার মোড়ে পুলিশ নেই মানেই ইচ্ছেমতো ট্রাফিক নিয়ম ভাঙার দিন আর নেই। দেশের বিভিন্ন শহরের ব্যস্ত রাস্তা ও এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের গতিবিধি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার থেকে পুরোপুরি নজরদারি চালাবে অত্যাধুনিক এআই ক্যামেরা। গাড়ি চালানোর সময় হেলমেট বা সিট বেল্ট না পরা, লালবাতি অমান্য করা, অতিরিক্ত গতি কিংবা ভুল জায়গায় গাড়ি পার্কিং—সবকিছুই নিমেষে ধরা পড়বে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ক্যামেরায়।

১৯৮৮ সালের মোটর যান আইন অনুযায়ী সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এতদিন পুলিশ ও সাধারণ সিসিটিভির ওপর নির্ভরতা থাকলেও, এই প্রযুক্তির সংযোজন ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।

কোন ভুলে সবচেয়ে বেশি জরিমানা? জাতীয় ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট মেশিনারির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জেরে কোটি কোটি জরিমানা জারি হয়েছে। এর মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছে হেলমেট না পরার প্রবণতা। মোট জরিমানার প্রায় ২৮ শতাংশই কাটা হয়েছে হেলমেটের নিয়ম ভাঙার জন্য। এরপরেই রয়েছে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো (১৩.১ শতাংশ), ভুলভাবে গাড়ি পার্কিং (১০.৯ শতাংশ), ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা (১০.৪ শতাংশ) এবং সিট বেল্ট না পরার মতো ঘটনা (৬.১ শতাংশ)।

জরিমানার অংক কত?

  • অতিরিক্ত গতি: ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা (ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে ২,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা)।
  • হেলমেট বা সিট বেল্ট না পরা: ১,০০০ টাকা পর্যন্ত (সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স আটকে দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও হতে পারে)।
  • লালবাতি অমান্য করা: ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।

যেভাবে কাজ করবে এই এআই সিস্টেম গাড়ি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করলে বা সিগন্যাল ভাঙলে এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট স্ক্যান ও রেকর্ড করে নেয়। এরপর সেই ডেটার ভিত্তিতে ই-চালান তৈরি হয়ে সরাসরি গাড়ির মালিকের নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে চলে আসে। তবে অঞ্চলভেদে এই এআই ক্যামেরার ব্যবহার এবং জরিমানার নিয়মে কিছু তারতম্য থাকতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *