তিন বছর পর ফের সুদ বাড়াল ফেড: ভারতীয় বাজারে বড় ধস না কি সাময়িক অস্থিরতা?

আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ’ ফের সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াল। এর ফলে আমেরিকার ফেডারেল ফান্ডস রেটের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম ফের সুদের হার বৃদ্ধি করল ফেড। মূল্যবৃদ্ধি ২ শতাংশের উপরে থাকায় চলতি বছরে আরও অন্তত একবার সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন নীতিনির্ধারকেরা।
এক নজরে ফেডের সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববাজারের অবস্থা
- সুদের হার: ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে নতুন হার ৩.৭৫–৪.০০%।
- মার্কিন শেয়ার বাজার: অনিশ্চয়তার জেরে S&P 500 কমেছে ০.৪৫%, ন্যাসড্যাকও প্রায় ফ্ল্যাট বা সামান্য নিম্নমুখী।
- ডলারের দাপট: ডলার ইনডেক্স একলাফে ১০০.৩-এ পৌঁছেছে।
- বন্ড ইয়েল্ড: উচ্চ সুদের কারণে বন্ড রিটার্ন আকর্ষণীয় হওয়ায় শেয়ার বাজার থেকে নিরাপদ সম্পদের দিকে অর্থ সরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় শেয়ার বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আমেরিকার সুদের হার বাড়লে সাধারণত ভারতের মতো উদীয়মান বাজারগুলির ওপর বিক্রির চাপ তৈরি হয়। শক্তিশালী ডলারের টানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে আমেরিকার বন্ড বা সম্পদে বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে ভারতীয় শেয়ারের পাশাপাশি টাকার দামের ওপরও চাপ পড়তে পারে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়টি বাজার আগে থেকেই অনুমান করে নিয়েছিল। ফলে ঘোষণার পর হঠাৎ বড় ধসের ঝুঁকি কম।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
- ভি কে বিজয়কুমার (জিঅজিত ইনভেস্টমেন্টস): “বাজার এটি আগেই ধরে নিয়েছিল, তাই বড় ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফেডের কড়া মনোভাব মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বাজারে আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে।”
- রস ম্যাক্সওয়েল (ভিটি মার্কেটস): “স্বল্পমেয়াদে ভারতীয় শেয়ারে কিছুটা চাপ দেখা যেতে পারে, তবে ফেড যদি বিষয়টি ধীরে ধীরে সামাল দেয়, তবে বাজারে বড় পতন আটকানো সম্ভব।”
আগামী দিনগুলিতে ফেড কী বার্তা দেয়, বন্ড ইয়েল্ড কোন দিকে যায় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আচরণ কেমন থাকে—তার ওপরই নির্ভর করবে ভারতীয় শেয়ার বাজারের গতিপথ।