লেট, ভিড় আর দুর্গন্ধ: ভারতীয় রেলের ‘নরকযন্ত্রণা’র তালিকা!
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেট, উপচে পড়া ভিড়, এসি বিকল আর নাড়ি-উল্টানো শৌচালয়ের দুর্গন্ধ—সব মিলিয়ে দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রা এখন যাত্রীদের কাছে এক চরম ট্রমার নাম। নির্ধারিত সময়ের বহু পরে প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢোকা কিংবা প্যান্ট্রি কার না থাকার মতো অনিয়মই যেন এখন ভারতীয় রেলের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা তাই রেলের এই দৈন্যদশা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি-সহ তুলে ধরে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন।
যেসব ট্রেনে দুর্ভোগের শেষ নেই
- উদ্যান আভা তুফান এক্সপ্রেস: অনিয়মানুবর্তিতার দিক থেকে শীর্ষে থাকা এই ট্রেনের ১২ ঘণ্টারও বেশি লেট হওয়া যেন স্বাভাবিক ঘটনা। ভিড়ে ঠাসা কামরা এবং প্যান্ট্রি কারের অভাব যাত্রীদের যাত্রা বিষময় করে তোলে।
- মহানন্দা এক্সপ্রেস: আলিপুরদুয়ার থেকে দিল্লির দীর্ঘ রুটে অন্যান্য সুপারফাস্ট ট্রেনকে পাস দিতে গিয়ে এই ট্রেনটি বারবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে সময়ানুবর্তিতার কোনো অস্তিত্বই নেই এখানে।
- মথুরা–ছাপরা এক্সপ্রেস: নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অন্তত তিন ঘণ্টা লেট না করলে যাত্রীরাই অবাক হন! অপরিচ্ছন্নতা আর চরম অনিশ্চয়তাই এই ট্রেনের পরিচয়।
প্রিমিয়াম ট্রেনেও চরম অব্যবস্থা
সাধারণ মেল বা এক্সপ্রেস তো বটেই, চড়া দামের টিকিট কেটেও স্বস্তি মিলছে না প্রিমিয়াম ট্রেনগুলোতে। পুরী–হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস বা মুম্বই–হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনেও পুরোনো জরাজীর্ণ বগি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ট্রেন ছাড়ার দেড় ঘণ্টা পর এসি চালু হওয়া কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচালয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
রেলযাত্রার মান শুধু ট্রেনের গতি দিয়ে মাপা যায় না; কামরার পরিচ্ছন্নতা, সঠিক সময় এবং গুণগত পরিষেবাই শেষ কথা। আর সেই মূল পরীক্ষায় দেশের একের পর এক ট্রেন এখন ব্যর্থ।