অক্টোবরেই শুরু ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর আবেদন! কারা পাবেন টাকা? জেনে নিন পুরো নিয়ম

অক্টোবরেই শুরু ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর আবেদন! কারা পাবেন টাকা? জেনে নিন পুরো নিয়ম

পশ্চিমবঙ্গের কর্মহীন ও শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের আত্মনির্ভর করে তুলতে রাজ্য সরকার নিয়ে আসছে নতুন উদ্যোগ— ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’। সূত্রের খবর, ১ অক্টোবর অর্থাৎ দুর্গাপুজোর আগেই এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে। সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবসমাজ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট আর্থিক ভাতা পাবেন।

কত টাকা এবং কী কী সুবিধা মিলবে?

এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে দুটি বিভাগে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে:

  • গ্র্যাজুয়েট বেকার যুব-যুবতী: মাসে ৩,০০০ টাকা।
  • নন-গ্র্যাজুয়েট বেকার যুব-যুবতী: মাসে ২,০০০ টাকা।
  • পরীক্ষার প্রস্তুতি সহায়িকা: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বইপত্র কেনার জন্য প্রার্থীরা এককালীন ১৫,০০০ টাকার অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য পেতে পারেন।
  • স্থায়ী ভাতা: স্থায়ী কর্মসংস্থান বা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এই সাহায্য অব্যাহত থাকবে।

আবেদনের যোগ্যতা ও মানদণ্ড

প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে নিম্নলিখিত শর্তাবলি পূরণ করতে হবে:

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে (কয়েক দশক ধরে বাংলায় বসবাসকারী পরিযায়ী পরিবারের হিন্দিভাষী যোগ্য যুবকেরাও আবেদনের সুযোগ পাবেন)।
  • বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছর (বা সর্বোচ্চ ৪৫ বছর পর্যন্ত যোগ্যতার শর্তানুযায়ী)।
  • ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
  • প্রার্থীর পরিবারের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
  • প্রার্থীকে সম্পূর্ণ কর্মহীন হতে হবে এবং অন্য কোনও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা বা বৃত্তিমূলক প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়া চলবে না।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে নিবন্ধনের জন্য প্রধানত যে নথিগুলি লাগতে পারে:

  • আবেদনকারীর সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড
  • জন্ম সনদ অথবা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ তথ্য (Bank Passbook Detail)
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে অরিজিনাল ও প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট)

কীভাবে করবেন আবেদন?

নবান্ন সূত্রের খবর, জালিয়াতি রুখতে ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি ডেডিকেটেড ডিজিটাল পোর্টাল চালু করা হচ্ছে।

১. অনলাইন পোর্টাল: অক্টোবর মাসের শুরুতেই পোর্টাল চালু হলে প্রার্থীরা অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন।

২. নথি যাচাই: আবেদন জমা পড়ার পর প্রশাসনিক স্তরে নথি সরেজমিনে যাচাই বা ভেরিফিকেশন করা হবে।

৩. টাকা জমা: সফল ভেরিফিকেশন শেষে নভেম্বর মাস থেকে আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো শুরু হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *