ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা নয়: হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে পুলিশি অভিযান, ফাঁকা গ্যালিফ স্ট্রিটের পোষ্য হাট

ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা নয়: হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে পুলিশি অভিযান, ফাঁকা গ্যালিফ স্ট্রিটের পোষ্য হাট

কলকাতা: উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ গ্যালিফ স্ট্রিটের পোষ্য হাটে রবিবারের চেনা ভিড় উধাও। কলকাতা পুরসভার (KMC) বৈধ ট্রেড লাইসেন্স না থাকা এবং নিষিদ্ধ বন্যপ্রাণী ও সংরক্ষিত পাখি বেচাকেনার ওপর হাইকোর্টের কড়া বার্তার পর, রবিবার সকালে যৌথ অভিযানে নামে পুলিশ ও শুল্ক দপ্তর (Customs)। প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মুখে একে একে পসার গুটোতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাঁকা হয়ে যায় পুরো হাট।

এক নজরে মূল বিষয়:

  • অভিযানের কারণ: কেএমসি-র বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা বন্ধ করা এবং সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর চোরা কারবার রোখা।
  • আদালতের কড়া অবস্থান: টিয়া, পাহাড়ি ময়না বা চন্দনার মতো সংরক্ষিত পাখি বিক্রি রুখতে রাজ্য পুলিশ ও কাস্টমসকে সরাসরি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
  • হাটের ইতিহাস: ১৯৯৬ সাল থেকে উত্তর কলকাতার গ্যালিফ স্ট্রিটে নিয়মিত বসে এই সাপ্তাহিক পোষ্য বাজার।

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ ও পুলিশি অ্যাকশন

গ্যালিফ স্ট্রিট হাটে অসংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিক্রির অভিযোগে ২০২০ সালে একটি স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা রুজু হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এ বিষয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, পোষ্য বিক্রির আড়ালে টিয়া, চন্দনা বা পাহাড়ি ময়নার মতো সুরক্ষিত পাখির বেআইনি কারবার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

পাশাপাশি শুল্ক দপ্তরকে (Customs) পৃথক আদেশের অপেক্ষা না করে নিজস্ব ক্ষমতায় বেআইনি পাচার রুখতে তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই রবিবার ভোরে হাটে হাজির হয় পুলিশ ও কাস্টমস। জানানো হয়, বৈধ কেএমসি ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া হাটে কেনাবেচা চালানো যাবে না।

উত্তর কলকাতার প্রাচীন পোষ্য হাট

কলকাতার পোষ্যপ্রেমীদের কাছে গ্যালিফ স্ট্রিটের হাট অত্যন্ত পরিচিত। পূর্বে হাতিবাগানে বসলেও ১৯৯৬ সালে হাটটি গ্যালিফ স্ট্রিটে সরে আসে। প্রতি রবিবার খড়দহ, ব্যান্ডেল সহ একাধিক এলাকা থেকে বিক্রেতারা কুকুর, খাঁচার পাখি, রঙিন মাছ, খরগোশ এবং বিরল প্রজাতির গাছ নিয়ে হাজির হন। প্রতি সপ্তাহে বহু মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন।

কী দাবি করছে হাট সমিতি?

তবে এই অভিযানের পর বাগবাজার সখের হাট ওয়েলফেয়ার সমিতির দাবি, হাটের কোনো বৈধ সদস্য কোনো অনিয়ম করেন না। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে। হাটের বাইরে থেকে কিছু বহিরাগত এসে অবৈধ পোষ্য ও পাখি বিক্রি করে, যার দায় বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর বর্তাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *