আগুনে ঝলসে গেল নববধূ! সিটং বার্বিকিউ কাণ্ডে বন্ধ হোমস্টে, ময়দানে ফরেন্সিক টিম

দার্জিলিং: উত্তরবঙ্গের সিটংয়ের এক হোমস্টেতে বার্বিকিউ করার সময় আগুন লেগে নববধূর ঝলসে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল পুলিশ। ঘটনার সময় বার্বিকিউতে ঠিক কী ধরনের তরল ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই দানা বেঁধেছে রহস্য। এটি কি কেরোসিন ছিল, নাকি কোনো বিপজ্জনক রাসায়নিক—তা নিশ্চিত করতে এ বার ফরেন্সিক দলের সাহায্য নিচ্ছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট হোমস্টেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, বার্বিকিউ তৈরি একটি বিশেষ ও সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া, যার জন্য দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন। হোমস্টের মালিক নেহাল আইরন ভিডিও বার্তায় দাবি করেছিলেন যে সেখানে কেরোসিন ঢালা হয়েছিল। তবে সাধারণ বার্বিকিউতে কেন কেরোসিন ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা। সেই তরল আদৌ কেরোসিন কি না এবং তা বার্বিকিউতে ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা খতিয়ে দেখতে কার্শিয়াং থানার পুলিশ হোমস্টে থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার ওয়াইএস জগন্নাথ রাও জানান, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এই চাঞ্চল্যকর কাণ্ডে ইতিমধ্যেই হোমস্টে মালিক এবং কর্মী-সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে নাসিরুদ্দিন নামে সেই যুবকও, যে সরাসরি বার্বিকিউয়ের আগুনে তরল দাহ্য পদার্থ ঢেলেছিল। যার জেরে আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক রূপ নেয় এবং পর্যটক তরুণী নিকিতা সাহা আগুনে পুড়ে যান। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হন তাঁর স্বামী সৌভিক দাসও। ধৃত চার জনই বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
অন্যদিকে, আগুনে তরুণী নিকিতা সাহার শরীরের অন্তত ৫০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছে। শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক বলে হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার চিন্তাভাবনা করছেন পরিবারের সদস্যরা।