“জোড়াফুল তো আমারই আঁকা!” ২৮ বছর পর চিত্রশিল্পীর বোমা, কুণালের কড়া জবাব

নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকটি সাময়িকভাবে ফ্রিজ (Freeze) করতেই হঠাৎ উসকে উঠল ২৮ বছর পুরনো এক গোপন ইতিহাস! জোড়াফুল প্রতীকের আসল স্বত্বাধিকারী নাকি কোনো রাজনেতা নন, বরং এক প্রবীণ চিত্রশিল্পী— এমনই এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শোরগোল।
সম্প্রতি চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরী দাবি করেন, ১৯৯৮ সালে তৈরি হওয়া তৃণমূলের এই বিশ্বখ্যাত প্রতীকের মূল তুলির টানটি তাঁরই ছিল। তবে এই দাবিকে ‘সস্তা রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য শাসকদল।
২৮ বছরের ‘বঞ্চনা’ ও সোমনাথ চৌধুরীর দাবি
শিল্পী সোমনাথ চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের ঠিক মুখে তৎকালীন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রয়াত অজিত পাঁজা তাঁর কাছে বেশ কিছু ফুলের নকশা এঁকে দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে আসেন। অজিতবাবুর নির্দেশমতো তিনি বেশ কয়েকটি স্কেচ জমা দেন।
পরবর্তীতে টিভিতে নতুন দলের প্রতীক হিসেবে নিজের আঁকা ‘জোড়াফুল’ দেখতে পেলেও, দীর্ঘ ২৮ বছরে সেই শ্রমের ন্যূনতম স্বীকৃতি তিনি পাননি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন প্রতীকটি ফ্রিজ করায় তাঁর সংযোজন, “এত দিন পর অন্তত সঠিক বিচার শুরু হলো।”
“খসড়া আর রাজনৈতিক দর্শন এক নয়!”— পালটা কুণাল
শিল্পীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, প্রচারের আলোয় আসতেই এই ধরনের দাবি তোলা হচ্ছে।
প্রতীকের মূল ভাবাদর্শের ব্যাখ্যা দিয়ে কুণাল ঘোষ জানান:
- মাটির টান (গ্রাসরুট): ‘ঘাস’ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাটির নিবিড় সম্পর্কের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
- সমতা ও সম্প্রীতি: জোড়াফুলের মূল ভাবনায় রয়েছে নারী-পুরুষের সমতা ও সামাজিক সম্প্রীতি।
কুণাল স্পষ্ট জানান, প্রয়াত অজিত পাঁজা হয়তো সে সময় একাধিক শিল্পীকে দিয়ে প্রাথমিক রাফ স্কেচ করিয়েছিলেন। কিন্তু স্কেচ করার অর্থ প্রতীকের রাজনৈতিক জনক হওয়া নয়। এই প্রতীক ও ভাবাদর্শের মূল রূপকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কুণাল বলেন, “দল গঠনের সময় ইস্তাহারের খসড়া তৈরিতে আমিও যুক্ত ছিলাম। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ হাতে তা সংশোধন করে মূল রূপ দিতেন। প্রাথমিক খসড়া আর চূড়ান্ত ভাবনার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত থাকে।”
রহস্য বাড়াচ্ছে টাইমিং
তিন দশক ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা এই বিতর্ক হঠাৎ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই কেন সামনে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, প্রবীণ শিল্পী তাঁর দাবির সপক্ষে তখনকার কোনো স্কেচ বা প্রমাণ সামনে আনতে পারেন কি না, নাকি এই বিতর্কও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আকচা-আকচির ভিড়ে হারিয়ে যায়।