এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলেই কি ক্যানসারের ঝুঁকি? আসল সত্যি জানালেন চিকিৎসক

ওবেসিটি, ফ্যাটি লিভার কিংবা কোলেস্টেরলের সমস্যায় এখন প্রায় ঘরে ঘরেই ভাজাভুজি খাওয়া বারণ। এই পরিস্থিতিতে একদম কম তেলে মুচমুচে খাবারের স্বাদ পেতে অনেকেই ভরসা করছেন ‘এয়ার ফ্রায়ার’-এর ওপর। তবে তেল ছাড়া রান্না মানেই কি তা একশো শতাংশ নিরাপদ? এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি খাবার কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে? এই নিয়ে মুখ খুললেন বিশিষ্ট চিকিৎসক রুদ্রজিৎ পাল।
উচ্চ তাপমাত্রায় লুকিয়ে থাকা রাসায়নিক বিপদ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এয়ার ফ্রায়ারে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় খাবারে ‘অ্যাক্রিলামাইড’ (Acrylamide) নামক একটি রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আলু বা স্টার্চ-সমৃদ্ধ খাবার বেশি উত্তাপে এবং বেশি সময় ধরে রান্না করলে এই রাসায়নিকের মাত্রা বাড়ে। অস্ট্রেলিয়ার সংস্থা SafeWork NSW এই উপাদানটিকে সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া এয়ার ফ্রায়ারের নন-স্টিক কোটিংয়ে ব্যবহৃত ‘PFAS’ রাসায়নিকও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।
ক্যানসারের ঝুঁকি কতটা বাস্তব? এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করা কি ক্যানসারকে ডেকে আনা? এই প্রসঙ্গে ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল জানান, এয়ার ফ্রায়ারে খুব কম সময়ে দ্রুত তাপ তৈরি হয়। এর ফলে খাবারে কিছু ফ্রি র্যাডিকাল উৎপন্ন হতে পারে, যার মধ্যে কিছু উপাদান কার্সিনোজেনিক (ক্যানসার সৃষ্টিকারী) হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এটি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো নিরেট বা চূড়ান্ত প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। এমনকি এই ধরনের তাত্ত্বিক ঝুঁকি মাইক্রোওভেনে খাবার গরম করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তাহলে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করা কি সঠিক? ডাঃ পালের মতে, তেল কম লাগে বলে এয়ার ফ্রায়ার তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর একটি বিকল্প। হৃদরোগ বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা যাদের রয়েছে, তাদের জন্য কম তেলের রান্না অবশ্যই উপকারী। তবে প্রতিদিন বা অতিরিক্ত মাত্রায় এয়ার ফ্রায়ারের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া উচিত নয়। মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা নিরাপদ হলেও নিয়মিত ব্যবহারের অভ্যাস কিছুটা কমিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ।