মহাষষ্ঠীতেই রাজ্যসভার ভোট! পুজোর ছুটিতে বিধানসভায় কড়া প্রশাসনিক তৎপরতা

মহাষষ্ঠীতেই রাজ্যসভার ভোট! পুজোর ছুটিতে বিধানসভায় কড়া প্রশাসনিক তৎপরতা

কলকাতা: উৎসবের আবহ আর ঢাকের কাঠির সুরের মাঝেই রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্যসভার উপনির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর—অর্থাৎ দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর দিন পশ্চিমবঙ্গ থেকে খালি হওয়া রাজ্যসভার একটি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী পঞ্চমী থেকেই উৎসবের ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই উপনির্বাচন ও বিধায়কদের ভোটদানের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে বিধানসভা সচিবালয়ের আধিকারিক ও কর্মীদের পুজোর ছুটির মধ্যেই কাজে যোগ দিতে হতে পারে।

কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি:

  • বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর
  • মনোনয়ন জমার শেষ দিন: ৬ অক্টোবর
  • মনোনয়নপত্র পরীক্ষা (স্ক্রুটিনি): ৭ অক্টোবর
  • প্রার্থিপদ প্রত্যাহার: ৯ অক্টোবর
  • ভোটগ্রহণ ও গণনা: ১৬ অক্টোবর (ভোট সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে, ভোটগণনা বিকেল ৫টা থেকে)
  • সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ: ১৯ অক্টোবর

ভোটদানের ক্ষেত্রে ব্যালট পেপারে পছন্দের ক্রম চিহ্নিত করার জন্য কমিশনের নির্দিষ্ট বেগনি রঙের কলম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ছুটির আমেজে প্রশাসনিক ব্যস্ততা:

পুজোর মুখে যখন শহরজুড়ে প্রস্তুতি ও যান চলাচলের ব্যস্ততা তুঙ্গে থাকে, ঠিক তখনই বিধানসভায় নিরাপত্তা ও ভোটের পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। সচিবালয় সূত্রের খবর, উৎসবের আবহ থাকলেও কাজের ক্ষেত্রে কোনো ঢিলেমি থাকবে না। তবে শাসকদল ছাড়া অন্য কোনো দল প্রার্থী না দিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত হবে। সে ক্ষেত্রে ৭ বা ৯ অক্টোবরের মধ্যেই জয়ের শংসাপত্র হস্তান্তরিত হতে পারে এবং মহাষষ্ঠীর দিনে আর ভোটের প্রয়োজন পড়বে না।

কোয়েল মল্লিককে ঘিরে জোর জল্পনা:

অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগের পরেই এই আসনটি শূন্য হয় (যার মেয়াদ ছিল ২০৩২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত)। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, ভবানীপুরের পৈতৃক বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসবের মাঝেই কি কোয়েলকে ফের রাজ্যসভার প্রার্থী করা হতে পারে?

উল্লেখ্য, এর আগে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক পদত্যাগ করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে কোয়েলের ক্ষেত্রেও সেই পথ অনুসৃত হবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। অন্যদিকে বিজেপি এই আসনে প্রার্থী দেবে কি না, তা নিয়ে এখনও জট কাটেনি। সব মিলিয়ে, পুজোর আমেজের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতির পারদ এখন চড়তে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *