INDIA জোটের বৈঠক এড়াচ্ছেন অখিলেশ! কংগ্রেসের ওপর কোন ‘গোসসা’ নাকি অন্য ছক?

INDIA জোটের বৈঠক এড়াচ্ছেন অখিলেশ! কংগ্রেসের ওপর কোন ‘গোসসা’ নাকি অন্য ছক?

নয়াদিল্লি: ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং SIR প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পরা নিয়ে বর্তমানে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে উদ্ধব ঠাকরে—বিরোধী ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। এই ইস্যুতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কিন্তু সমস্ত জল্পনা উসকে দিয়ে এই মহা-বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির (SP) সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব।

হঠাৎ কেন এই জোট-বৈঠক এড়িয়ে চলছেন অখিলেশ? এই নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। সমাজবাদী পার্টির তরফে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই সংক্রান্ত একাধিক বৈঠক থাকায় দিল্লি যেতে পারছেন না অখিলেশ। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের অন্য কোনও শীর্ষ প্রতিনিধি ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে থাকবেন।

তবে সমাজবাদী পার্টির অন্দরের সূত্র এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত সম্পূর্ণ আলাদা। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখোমুখি হওয়া এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অখিলেশ। অখিলেশ, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে একমঞ্চে এলেই আগামী উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আসন রফা (Seat Sharing) নিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারে কংগ্রেস।

কংগ্রেস চাইছে দ্রুত আসন সমঝোতা শেষ করতে, যাতে শেষ মুহূর্তে তাদের বিপদে পড়তে না হয়। বিশেষ করে কংগ্রেস নেতা ইমরান মাসুদসহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব সমাজবাদী পার্টির ওপর আসন রফার বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন।

অন্যদিকে অখিলেশ যাদব চাইছেন আসন ভাগাভাগির আলোচনা যতটা সম্ভব পিছিয়ে দিতে। এসপি-র কৌশল স্পষ্ট—কংগ্রেস যেন প্রথমে তাদের নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনাময় আসনগুলির তালিকা পেশ করে, তবেই বাকি আসন নিয়ে আলোচনা হবে। কংগ্রেসের ভয়, আলোচনা আরও ১-২ মাস ঝুলে থাকলে অন্য কোনও দলের সঙ্গে হাত মেলানোর পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং শেষপর্যন্ত অখিলেশের শর্ত মেনেই জোট করতে তারা বাধ্য হবে।

যদিও মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে অখিলেশের ফোনে কথা হয়েছে এবং অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তাঁদের মধ্যে পৃথক একটি বৈঠক হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবুও আসন সমঝোতার এই টানাপোড়েনে কংগ্রেসের সঙ্গে যে একধরনের সূক্ষ্ম ‘দূরত্ব’ তৈরি হয়েছে, তা অখিলেশের বৈঠক এড়ানোর সিদ্ধান্তে পরিষ্কার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *