পুরভোটেও উধাও ‘জোড়াফুল’! মমতা-ঋতব্রত প্রতীক লড়াইয়ে নির্বাচন কমিশনকে বড় ডেডলাইন দিল সুপ্রিম কোর্ট

পুরভোটেও উধাও ‘জোড়াফুল’! মমতা-ঋতব্রত প্রতীক লড়াইয়ে নির্বাচন কমিশনকে বড় ডেডলাইন দিল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক শিবিরের প্রতীক ভাগ্য। ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ চিহ্ন এবং ‘তৃণমূল’ নামের প্রকৃত মালিকানা কার হাতে থাকবে— সেই সংক্রান্ত মামলায় সোমবার ঐতিহাসিক নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৪ মাসের মধ্যে উভয় পক্ষের সমস্ত যুক্তি ও বয়ান শুনে প্রতীক সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI)।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়— উভয় পক্ষের সমস্ত নথি ও বক্তব্য শুনবে নির্বাচন কমিশন। এর পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে সমস্ত তথ্য যাচাই করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে হবে কমিশনকে।

পুরভোটে প্রতীক না পাওয়ার আশঙ্কা: দুর্গাপুজোর পর নভেম্বরের শেষেই কলকাতা ও হাওড়াসহ একাধিক জেলায় পুরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু চার মাসের এই আইনি প্রক্রিয়ার মেয়াদ চলায় নির্বাচন কমিশন ততদিনে চূড়ান্ত রায় না দিতে পারলে, আসন্ন পুরভোটেও মমতা বা ঋতব্রত— কোনও পক্ষই জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

ইতিমধ্যেই ফ্রিজ জোড়াফুল চিহ্ন: আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। তার আগেই নাম ও প্রতীক সংঘাতের কারণে নির্বাচন কমিশন আসল ‘জোড়াফুল’ চিহ্ন ও ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ‘ফ্রিজ’ বা স্থগিত করে দেয়।

  • মমতা শিবির: ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ চিহ্নে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
  • ঋতব্রত শিবির: ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে ‘খাম’ প্রতীকে লড়ছে।

কী থেকে বিতর্কের সূত্রপাত? উপনির্বাচনে একই দলের নাম ও ফর্ম নিয়ে দুই শিবিরের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হয়।

  • রেজিনগরে: অরূপ রায়ের ‘ফর্ম বি’ নিয়ে সফিউজ্জামান শেখ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন দেন।
  • নন্দীগ্রামে: অরূপ রায়ের অনুমোদনে এহতেশমুল হক এবং মমতার সই করা ফর্মে সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন জমা দেন (পরবর্তীকালে নন্দীগ্রামের মমতা-পন্থী প্রার্থী নাম প্রত্যাহার করে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন)।
  • আসামের নগাঁও: একইভাবে নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদিত প্রার্থী হিসেবে আব্দুল সালাম মনোনয়ন দেন।

জোড়া প্রার্থীর এই আইনি প্যাঁচ ঘনীভূত হতেই জল গড়ায় আদালতে, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন নির্বাচন কমিশনের ৪ মাসের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *