‘অধিকার ফেরত চাই!’ বিধানসভায় প্রস্তাব পাস ওমর সরকারের, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

জম্মু ও কাশ্মীরকে আবার পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিধানসভায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হলো। তবে প্রস্তাবে ‘স্বায়ত্তশাসন’ (অটোনমি) সংক্রান্ত বিষয়টি যুক্ত থাকায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সভা থেকে ওয়াকআউট করেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিধায়করা। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ প্রস্তাবটি পেশ করে কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি সুর চড়ান।
বিধানসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ দুটি ঐতিহাসিক তারিখের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রথমটি ২০০০ সালের ২৬ জুন—যেদিন তাঁর বাবা ফারুক আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন সরকার বিধানসভায় স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব পাস করেছিল। আর দ্বিতীয়টি ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর—যেদিন জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যমর্যাদা ফেরানোর দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয়। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, এই দুই ঐতিহাসিক মাইলফলককে সম্মান জানিয়ে কেন্দ্রের উচিত অবিলম্বে কাশ্মীরবাসীর বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে যাবতীয় অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
বিতর্ক চলাকালীন ১৯৫৩ সালের ৯ নভেম্বরের কথাও উঠে আসে, যেদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতার মেয়াদ একরকম থমকে গিয়েছিল। ওমরের অভিযোগ, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার কারণে স্বাধীনভাবে রাজ্য চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানাবিধ প্রশাসনিক প্রশাসনিক বাধা ও জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি বিধানসভার স্পিকারের কাছে আইন মন্ত্রকের চিঠি পাঠানো নিয়েও কেন্দ্রকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
এদিকে, প্রস্তাব পেশের পর থেকেই তোলপাড় শুরু হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিতে। শাসক শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা পুনর্বহালের জন্য সংশোধনী আনতে চাইলেও তা কৌশলে এড়িয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই ধরণের সংশোধনী আনা বস্তুত বিরোধীদের তৈরি পাতা ফাঁদে পা দেওয়ার শামিল। সব মিলিয়ে, রাজ্যের পূর্ণ মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে কাশ্মীর উপত্যকায় রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।