ট্রাম্পকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম প্রার্থী, কে এই আব্দুল আল-সায়েদ?

ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের আক্রমণ উপেক্ষা করে মিশিগানে জয়ী আব্দুল আল-সায়েদ
মিশিগান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে সেনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রগ্রেসিভ ডেমোক্র্যাট নেতা আব্দুল আল-সায়েদ। বিদ্বেষমূলক প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণকে পেছনে ফেলে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই রিপাবলিকান শিবির ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আব্দুল আল-সায়েদকে লক্ষ্য করে তীব্র বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালান। তাঁকে ‘জিহাদি’, ‘উগ্রপন্থী’ ও ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এমনকি ট্রাম্প কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছিলেন যে, আব্দুল সেনেটে নির্বাচিত হলে সেখানে আলাদা করে মেটাল ডিটেক্টর বসানোর প্রয়োজন হবে। এছাড়া প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী মাইক রজার্স আব্দুলের বিরুদ্ধে আমেরিকায় মুসলিম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন এবং পরোক্ষভাবে ৯/১১ হামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোর চেষ্টা করেন।
এসব প্রতিকূলতার মুখেও আব্দুল আল-সায়েদ বিচলিত না হয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যে, শ্বেতাঙ্গ রাজনীতিকদের কাছে কখনও এমন প্রশ্ন করা হয় কি না। বিভাজনের রাজনীতির বদলে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবার অধিকার, বিত্তশালীদের ওপর উচ্চ কর ধার্য করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং বিদেশি যুদ্ধে সম্পদের অপচয় রোধের মতো জনকল্যাণমূলক বিষয়ের ওপর।
এই নির্বাচনী লড়াইয়ে আব্দুল আল-সায়েদকে সমর্থন জুগিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতারা। বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ, কমলা হ্যারিস এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মতো নেতারা তাঁর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় মিশিগানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আব্দুল বলেন, “নির্বাচিত সেনেটর হিসেবে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের।”
উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে মিশিগানে জন্মগ্রহণকারী আব্দুল আল-সায়েদ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণায় ডিগ্রি অর্জন করেন এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাদ ও চরমপন্থার বিপরীতে আব্দুল আল-সায়েদের এই জয় মার্কিন কংগ্রেসের বর্তমান সমীকরণ ও রাজনীতির ধারায় এক নতুন বার্তা নিয়ে এল।