বীরভূমে বিশাল অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ, ভোরের অভিযানেই কপালে ভাঁজ পুলিশের!

বীরভূমে বিশাল অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ, ভোরের অভিযানেই কপালে ভাঁজ পুলিশের!

 

বীরভূমে বিপুল বিস্ফোরক ও আসানসোল-দুর্গাপুরে অস্ত্র উদ্ধার: এসটিএফ-এর বড় সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করতে বীরভূম ও শিল্পাঞ্চলে পৃথক অভিযানে নামল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুরারই এবং আসানসোল-দুর্গাপুরে ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে বাহিনী।

এসটিএফ সূত্রে খবর, বীরভূমের মুরারই থানার অন্তর্গত বারোয়া গোপালপুর গ্রামের একাধিক সন্দেহজনক আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল বিস্ফোরক মজুত থাকার হদিস মেলে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ১১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডেটোনেটর এবং ১২ হাজার মিটার দীর্ঘ ডেটোনেটিং কর্ড। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহম্মদ রেজা শেখ ওরফে গুডা (রাজগ্রাম) এবং মুকেশ সিং (সিউড়ির তিলপাড়া) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কেন এবং কোথা থেকে আনা হয়েছিল, তার পেছনে কোনো নাশকতামূলক চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে এটিএস।

অন্যদিকে, কয়লা পাচার ও অস্ত্র চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত পাণ্ডবেশ্বর ও জামুড়িয়ায় পৃথক অভিযান চালায় এসটিএফ। এই অভিযানে মোট ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি লম্বা মাস্কেট, ৪টি সেভেন এমএম পিস্তল এবং ১১টি দেশি পাইপগান। এই ঘটনায় শেখ শাহজাহান নামে এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে খাইরুল আলম ও মহম্মদ শামসের নামে দুই অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তারের পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযানে ১৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়। সব মিলিয়ে এই একটি মামলাতেই মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২২ রাউন্ড কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বীরভূমের বিস্ফোরক ভাণ্ডার ও শিল্পাঞ্চলের অস্ত্র কারবারিদের উৎস সন্ধানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন লালবাজার ও এসটিএফ-এর শীর্ষ আধিকারিকরা। রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে এসটিএফ সূত্রে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *