সাবধান! ফলের নামে বিষ খাচ্ছেন না তো? কেমিক্যাল দিয়ে ফল পাকানো রুখতে কড়া পদক্ষেপ এফএসএসএআই-এর

আপনার কেনা সতেজ ও চকচকে ফলগুলো কি শরীরের জন্য বিষ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকানোর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মানক কর্তৃপক্ষ (FSSAI)। সম্প্রতি এক নির্দেশিকায় সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো মারাত্মক কেমিকেল ব্যবহার করে ফল পাকানো আইনত দণ্ডনীয় এবং এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
সাধারণত আম, কলা ও পেঁপের মতো ফল দ্রুত পাকাতে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা এথিফন জাতীয় কেমিকেল ব্যবহার করেন। চিকিৎসকদের মতে, এই পদ্ধতিতে পাকানো ফল খেলে বমি ভাব, ত্বকের মারাত্মক সমস্যা এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিল রোগ হতে পারে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এফএসএসএআই এখন কঠোর নজরদারির পথে হাঁটছে।
নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিযান
ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা কর্মকর্তাদের পাইকারি বাজার ও গুদামগুলোতে ঝটিকা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেমিকেলের উপস্থিতি শনাক্ত করতে এবার বিশেষ ‘টেস্ট পেপার’ ব্যবহার করা হবে, যা খুব সহজেই জানিয়ে দেবে ফলটি প্রাকৃতিকভাবে পেকেছে নাকি কৃত্রিমভাবে। এফএসএসএআই জানিয়েছে, শুধুমাত্র নির্ধারিত মাত্রায় এথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সরাসরি কেমিকেল মিশ্রিত জলে ফল ডুবিয়ে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে কৃত্রিমভাবে পাকানো ফলের জোগান কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। দোষী সাব্যস্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠিন শাস্তি কার্যকর করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও বিষমুক্ত পুষ্টি পেতে পারেন।
এক ঝলকে
- ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে ফল পাকানো নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় ঘোষণা করা হয়েছে।
- ক্ষতিকর কেমিকেল শনাক্ত করতে খাদ্য কর্মকর্তারা এখন থেকে বিশেষ টেস্ট পেপার ব্যবহার করবেন।
- অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরতে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজার ও গুদামে চলবে ঝটিকা অভিযান।
- আম, কলা ও পেঁপেতে কৃত্রিম কেমিকেল মেশালে বমি ও চর্মরোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে।