মাঝরাতে বারংবার খিদে পাওয়া কি কেবল অভ্যাস না কি বড় কোনো রোগের সংকেত

মাঝরাতে বারংবার খিদে পাওয়া কি কেবল অভ্যাস না কি বড় কোনো রোগের সংকেত

অনেকেরই সারাদিন ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করার পরেও মাঝরাতে হঠাৎ প্রবল খিদে পায়। রাত দুটো বা তিনটে নাগাদ ঘুম ভেঙে গেলে কিছু না খেয়ে আর ঘুম আসতে চায় না। চিকিৎসকদের মতে, মাঝেমধ্যে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক হলেও নিয়মিত এই প্রবণতা শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়। মূলত শরীরে শক্তির ঘাটতি তৈরি হলে মস্তিষ্ক খাবারের সংকেত পাঠায়, যা থেকে মাঝরাতে খাওয়ার ইচ্ছা জাগে।

নাইট ইটিং সিনড্রোম ও হরমোনের প্রভাব

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মাঝরাতে বারংবার খাওয়ার এই প্রবণতাকে ‘নাইট ইটিং সিনড্রোম’ বলা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যারা দীর্ঘ রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন, তাদের ঘুমের অভাব ঘটে। এর ফলে শরীরে ‘ঘ্রেলিন’ নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা মূলত খিদের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুমের চক্র ব্যাহত হলে এই হরমোন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে মাঝরাতে বারবার খিদে পায়।

শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি

রাতের এই খাদ্যাভ্যাস কেবল অনিদ্রার ফল নয়, এটি ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিয়মিত মাঝরাতে ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা ছাড়াও দ্রুত ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতার আশঙ্কা থাকে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে এটি লিভারের বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চিকিৎসকরা দিনের বেলা নির্দিষ্ট ব্যবধানে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং রাতের খাবার হালকা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। একইসঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করা এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। যদি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরেও এই সমস্যা না মেটে, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

এক ঝলকে

  • মাঝরাতে বারবার খিদে পাওয়া নাইট ইটিং সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে।
  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরে ঘ্রেলিন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় খিদের বেগ বাড়ে।
  • এই অভ্যাসের ফলে স্থূলতা ও লিভারের জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।
  • সঠিক সময়ে আহার এবং পর্যাপ্ত ঘুম এই সমস্যা থেকে মুক্তির প্রধান উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *