গর্ভকালীন মানসিক দোলাচল এড়াতে ভরসা হোক যোগব্যায়াম ও আত্মযত্ন

গর্ভকালীন মানসিক দোলাচল এড়াতে ভরসা হোক যোগব্যায়াম ও আত্মযত্ন

মাতৃত্ব যেকোনো নারীর জীবনের সবচেয়ে চমৎকার এবং একই সাথে এক বড় পরিবর্তনের অধ্যায়। তবে এই বিশেষ সময়টিতে হবু মায়েদের শরীরে হরমোনের ব্যাপক ওঠানামা ঘটে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে। ফলে দেখা দেয় তীব্র মুড সুইং বা মেজাজের ঘন ঘন পরিবর্তন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় গর্ভকালীন সময়ে এই মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা মন খারাপ লাগা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।

শারীরিক পরিবর্তন ও মনের ওপর প্রভাব

গর্ভধারণের পর নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের নিঃসরণ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই আকস্মিক হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে হবু মায়েরা প্রায়ই নিজের অজান্তেই খিটখিটে মেজাজের হয়ে ওঠেন কিংবা সামান্য কারণে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এই অনিয়ন্ত্রিত মানসিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে নিয়মিত যোগাসন বা প্রাণায়াম। বিশেষজ্ঞ নির্দেশিত হালকা যোগব্যায়াম শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মস্তিষ্কে ভালো লাগার হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়, যা মেজাজ শান্ত রাখতে অত্যন্ত সাহায্য করে।

প্রয়োজন আত্মযত্ন ও সামাজিক যোগাযোগ

মানসিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতে এই সময়টিতে গর্ভবতী নারীদের নিজের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। নিজের ভালো লাগার কাজগুলো করা, শখের চর্চা করা এবং নিজেকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এছাড়া মন খারাপের অনুভূতিগুলোকে চেপে না রেখে পরিবারের সদস্য বা কাছের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করা উচিত। এতে মনের ভেতরের অস্থিরতা কমে আসে। ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কাছাকাছি কোথাও থেকে ঘুরে আসাও মানসিক প্রশান্তির দারুণ উৎস হতে পারে। হবু মায়ের সুস্থ মানসিকতাই একটি সুস্থ শিশুর জন্ম নিশ্চিত করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *