খালি পেটে দুধ চা? অজান্তেই নিজের যে মারাত্মক ক্ষতি করছেন!
September 8, 20268:34 pm

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ গরম দুধ চা না খেলে অনেকেরই দিন শুরু হতে চায় না। আবার অনেকে মনে করেন, চায়ের সাথে দুধ পান করলে দুধের পুষ্টিগুণও বুঝি শরীর পেয়ে যাচ্ছে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিভিন্ন গবেষণা বলছে সম্পূর্ণ বিপরীত কথা। প্রতিদিন খালি পেটে দুধ চা খাওয়ার এই অভ্যাস অজান্তেই শরীরে ডেকে আনছে নানান জটিলতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, দুধের সাথে চা পাতা ও জল দীর্ঘক্ষণ ফোটালে দুধের মূল গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং শরীরের ওপর তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে:
- ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা: চা পাতায় প্রচুর পরিমাণে ‘ট্যানিন’ ও ‘অক্সালেট’ থাকে। এগুলো দুধের ক্যালসিয়ামের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় যৌগ তৈরি করে। ফলে দুধে ক্যালসিয়াম থাকা সত্ত্বেও শরীর তা শোষণ করতে পারে না।
- ভিটামিনের অপচয়: দুধে থাকা ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন ডি স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ধরে দুধ ফোটালে তাপে এই সংবেদনশীল ভিটামিনগুলোর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়।
- অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা হ্রাস: চায়ের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। তবে দুধের ‘কেসিন’ প্রোটিনের সাথে এটি মিশে গেলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায় এবং হজমেও সমস্যা তৈরি করে।
- তীব্র অম্বল ও পেটের সমস্যা: খালি পেটে চায়ের ক্যাফেইন ও ট্যানিন দুধের ফ্যাট বা চর্বির সাথে মিশলে পাকস্থলীতে দ্রুত অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়ায়। এর ফলে বুকজ্বালা, অম্বল, গ্যাস ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়। যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও মারাত্মক হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, দুধ চা কেবল স্বাদের তৃপ্তির জন্য পান করা যেতে পারে, পুষ্টি পাওয়ার জন্য নয়। প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের সুফল পেতে হলে দুধ আলাদাভাবে পান করা উচিত। আর চায়ের আসল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে দুধ ছাড়া লিকার চা বা গ্রিন টি পান করাই সবচেয়ে ভালো বিকল্প।