বাড়িতে অতিথি এলে ভুলেও করবেন না অবহেলা, কার আগমনে খোলে ভাগ্যের দুয়ার? জেনে নিন শাস্ত্রের নিয়ম

সনাতন হিন্দু ধর্মে এবং প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রে বলা হয়েছে—‘অতিথি দেবো ভবঃ’ বা ‘অতিথি নারায়ণ’। এর অর্থ হলো, বাড়িতে আসা যেকোনো অতিথি ভগবানেরই রূপ। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুসারে, বাড়িতে কোনো অতিথি বা অভ্যাগত এলে তাঁকে অবহেলা বা আসাম্মান করলে গৃহস্থের পুণ্য ক্ষয় হয় এবং রুষ্ট হন মা লক্ষ্মী। পক্ষান্তরে, সঠিক যত্ন ও আদরের মাধ্যমে তাঁদের সন্তুষ্ট করলে পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
জেনে নিন, কোন কোন অতিথি বাড়িতে এলে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয় এবং তাঁদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা বাঞ্ছনীয়:
১. বাড়িতে ভিক্ষুক বা অনাহারী এলে সাধ্যমতো দান করুন
আপনার দরজায় যদি কোনো ভিক্ষুক, সাধু বা ক্ষুধার্ত মানুষ আসেন, তবে তাঁকে ভুলেও খালি হাতে বা অবহেলা করে ফিরিয়ে দেবেন না। শাস্ত্র মতে, অনেক সময় পরীক্ষা নিতে ঈশ্বর স্বয়ং ছদ্মবেশে দরজায় আসতে পারেন। তাই আপনার সাধ্য বা সামর্থ্য অনুযায়ী অন্ন, বস্ত্র বা কিছু অর্থ তাঁকে দান করে তবেই বিদায় করুন। এতে ঘরের দারিদ্র্য দূর হয় এবং পুণ্য লাভ হয়।
২. বন্ধু বাড়িতে এলে মুখে হাসি ও আপ্যায়ন মাস্ট
কাজের ব্যস্ততা বা যেকোনো কারণে পুরনো বা নতুন কোনো বন্ধু বাড়িতে এলে তাঁকে অবহেলা করবেন না। বন্ধুকে বসার জায়গা দিন, মুখে হাসি রেখে কুশল বিনিময় করুন এবং অন্তত জল বা কিছু খাবার খাইয়ে তবেই বিদায় দিন। বন্ধুর আগমনে মানসিক চাপ দূর হয় এবং ঘরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়।
৩. শিশুর আগমন অত্যন্ত শুভ সংকেত
ছোট শিশুদের ঈশ্বরের রূপ মনে করা হয়। কোনো শিশু যদি আপনার বাড়িতে আসে, তবে তা অত্যন্ত শুভ লক্ষণ। শিশুকে কখনো বকাঝকা করবেন না বা অবহেলা করবেন产生的। সে বাড়িতে এলে আনন্দ প্রকাশ করুন এবং তার পছন্দমতো কোনো মিষ্টি, চকলেট বা খেলনা উপহার দিন। শিশুর মুখের হাসি আপনার ঘরে সৌভাগ্য ডেকে আনবে।
৪. প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের যত্ন করা আবশ্যক
বিপদের দিনে বা যেকোনো সামাজিক প্রয়োজনে আত্মীয় এবং প্রতিবেশীরাই সবার আগে এগিয়ে আসেন। তাই তাঁরা বাড়িতে এলে যথাযথ সম্মান ও আতিথেয়তা প্রদর্শন করা উচিত। তাঁদের বসার ব্যবস্থা করা, ভালো মন্দ খাওয়ানো এবং সুন্দর ব্যবহার করা গৃহস্থের পরম ধর্ম।
শাস্ত্র বলে, অতিথিকে খুশি মনে বিদায় দিলে তাঁদের মনের ভালোলাগা ও আশীর্বাদ আমাদের চারপাশের নেতিবাচক শক্তিকে দূর করে। তাই ঘরে আসা অতিথির জাত-পাত বা সামাজিক অবস্থান না দেখে, আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং সেবা করাই প্রকৃত মনুষ্যত্ব।