মাত্র একটা লাল কার্ডেই স্বপ্নভঙ্গ! টানা তিনবার বিশ্বকাপে নেই বিশ্বজয়ী ইতালি

মাঠে তখন বসনিয়ার হাজার হাজার সমর্থকদের গগনভেদী গর্জন। অন্যদিকে মাঠের মাঝখানে মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন ইতালির ফুটবলাররা। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলো, তবে সেটা কোনো বীরত্বগাঁথা নয়, বরং এক চরম অপমানের ট্র্যাজেডি। ২০১৮ এবং ২০২২-এর পর ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেল চারবারের বিশ্বজয়ী ইতালি। অথচ ম্যাচের শুরুটা ছিল অন্যরকম। মোইসে কিনের গোলে এগিয়ে গিয়ে জয় যখন হাতের মুঠোয় মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই ছন্দপতন।
একটি লাল কার্ড ও ম্যাচের মোড়: তরুণ ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনির একটি অপরিণামদর্শী ট্যাকল যেন অ্যারিস্টটলের সেই ‘হামারটিয়া’ বা মারাত্মক ভুলের চরম নিদর্শন হয়ে দাঁড়াল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখে বাস্তোনি মাঠ ছাড়লে ইতালি ১০ জনের দলে পরিণত হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় আজুরিদের পতনের বীজ বপন।
জেকোদের হার না মানা লড়াই: দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের ইতালিকে চেপে ধরে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা। ৭৯ মিনিটে হারিস তাবাকোভিচের সেই মরণপণ গোল সমতা ফেরায় ম্যাচে। অতিরিক্ত সময়েও ইতালির রক্ষণ কোনোমতে টিকে থাকলেও আসল পরীক্ষা ছিল পেনাল্টি শুটআউটে।
টাইব্রেকারের সেই চেনা অভিশাপ: ২০০৬ বিশ্বকাপ বা গত ইউরো জয়ে যে টাইব্রেকার ইতালির বন্ধু ছিল, আজ সেটাই হলো যম। পিও এসপোসিতো এবং ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের লক্ষ্যভ্রষ্ট শট ইতালির কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয়। অন্যদিকে বসনিয়ার প্রতিটি শট ছিল নিখুঁত। ৪-১ ব্যবধানে শুটআউট জিতে ২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে বসনিয়া।
শূণ্য থেকে শুরুর পালা: টানা ১২ বছর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে দেখা যাবে না ইতালিকে—এটা যেন অবিশ্বাস্য এক বাস্তবতা। কিংবদন্তি বুফোঁর সেই সতর্কবার্তা এখন সত্যি হতে চলেছে। মালদিনি কিংবা রোসিদের উত্তরসূরিদের ফুটবল সংস্কৃতি হয়তো এখন আমূল পরিবর্তনের অপেক্ষায়। বসনিয়ার উৎসবের রাতে নীল জার্সিধারীদের জন্য থাকল শুধু একরাশ দীর্ঘশ্বাস।